এই গোটা বিষয়টির ছবি সামনে আসার পরে এ বিষয়ে কী জানালেন তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে কানকাটা দেবু? এদিন টাকা উদ্ধারের ঘটনার পরেই কলেজের পাঁচতলার ঝাঁ চকচকে গেস্ট রুমের তালা ভাঙা হয়৷ ভাঙা হয় ইউনিয়ন রুম ও কমন রুম৷ পুলিশও ঘরগুলিতে পৌঁছয়৷
কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য তথা তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাঁচতলার এই এলাহী এসি রুমে রীতিমতো মাসাজ পার্লার চালাতেন তিনি৷ সেখানে নাকি কলেজের অশিক্ষক কর্মচারীদের দিয়ে মাসাজও করাতেন দেবাশিস? পাওয়ার গিয়েছে মদের বোতলও৷ তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে৷ এই অভিযোগ শোনার পরে কী প্রতিক্রিয়া দিলেন তৃণমূল নেতা?
দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘এসব সম্বন্ধে কথা বলাই উচিত নয়৷ পুরো ব্যাপারটাই সাজানো গেম৷ প্রি প্ল্যানড করা৷ একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কখনও এই জিনিস হতে পারে না৷ যে বলছে, সে এতদিন কেন প্রতিবাদ করেনি, কেন প্রশাসনের কাছে যায়নি৷ আমরা কোনওদিন টলারেট করিনি৷ করবও না ভবিষ্যতে৷ এগুলো সাজিয়ে রেখে করছে৷ আপনি যাওয়ার আগে সাজিয়ে রেখেছে৷’’
এমনকি, তাঁর ছেলে কলেজে যেত না বলেও জানান দেবাশিস ওরফে কানকাটা দেবু৷ তাঁর ছেলে খেলাধূলো নিয়ে থাকে, হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করে বলে জানান তিনি৷
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমের আলমারি থেকে বান্ডিল বান্ডিল উই ধরা টাকার ব্যাগও উদ্ধার হয় মঙ্গলবার৷ সেই প্রসঙ্গে দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না৷ গভর্নিং বডির মিটিংয়ে যেতাম ও বেরিয়ে আসতাম৷ এসব কলেজ কর্তৃপক্ষের দেখার৷’’ এই ঘটনায় তাঁর এবং তাঁর ছেলের জড়িত থাকার বিষয়টি ‘১০০ শতাংশ ভুল কথা’ বলে দাবি করেন তৃণমূল নেতা৷
এদিন টাকার বান্ডিল উদ্ধার হওয়ার ঘটনার পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুচিপাড়া থানার পুলিশ৷ তারপরে বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষও সেখানে পৌঁছন৷ তারপরে বিজেপি বিধায়কই ঘুরে দেখান সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ৫ তলায় গজিয়ে ওঠা টাইলস বসানো ঝাঁ চকচকে বেডরুম৷ সঙ্গে অ্যাটাচড বাথরুম৷ তাতে আধুনিক শাওয়ার থেকে শুরু করে রয়েছে সমস্ত রকম ব্যবস্থা৷
অভিযোগ, কলেজের টেরিস ফেসিলিটির নামে গেস্ট রুম আদতে ছিল দেবাশিসের ‘মাসাজ পার্লার’, ঘরের মধ্যে এসি সহ দু’টি বিছানা, গদি, আলমারিতে বালিশ, আপত্তিকর তরল সহ বোতল, গর্ভ নিরোধক সবই মিলেছে৷ কমন রুমে রয়েছে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ছেলে শিবাশিসের ছবি৷
প্রশ্ন উঠছে, ১৪০ বছর পুরনো কলেজ, যেখানে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ পড়াশোনা করেছেন, পড়েছেন, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, বেগম খালেদা জিয়া, সেই কলেজের এমন পরিস্থিতি কী করে হল৷ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস কলেজ কর্তৃপক্ষের৷