কলকাতা: এই ছবি মেয়েদের গল্প বলে। মেয়েদের অধিকারের গল্প, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর গল্প, অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়ার গল্প। মোট কথা, এই ছবি বার্তা দেয়, মেয়েরা সবসময় মেয়েদের শত্রু হয় না। তারা একসঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করতেও জানে। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shiboprosad Mukherjee) আর নন্দিতা রায়ের (Nandita Roy) নতুন সিনেমা ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ ছবিটিকে, নারীকেন্দ্রিক বললে অত্যুক্তি হবে না মোটেই। এই সিনেমা মেয়েদের মনের গল্প বলে, তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বলে। কিন্তু দর্শকেরা কী বলছেন এই সিনেমা দেখে? কী বলছেন পরিচালক?
‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ নিয়ে কী বলছেন পরিচালক শিবপ্রসাদ?
এই ছবির সাফল্য নিয়ে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘বক্সঅফিস অনুযায়ী, পঞ্চমতম দিনেই এই ছবি দেখে ফেলেছেন ৫০ হাজার মানুষ। শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, গোটা ভারতবর্ষেই হাউজফুল হচ্ছে একাধিক শো। অফিসের দিনে, নবি মুম্বই মালাড, ঘাটকোপারের মতো জায়গাগুলোতেও শো হাউজফুল হচ্ছে। নয়ডা, বেঙ্গালুরুর ছবিটাও এক। আজকে যেখানে ‘ধুরন্ধর’, ‘পুষ্পা’, ‘জওয়ান’, ‘অ্যানিম্যাল’-এর মতো সিনেমায় উগ্র পৌরুষত্ব দেখানো হচ্ছে, যেখানে দেখানো হচ্ছে, পুরুষতান্ত্রিকতাই শেষ কথা, যেখানে ছবির গল্প আবর্তিত হয় নায়ককে কেন্দ্র করেই… সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’-একটা জোরাল উচ্চারণ। বক্সঅফিসেও মেয়েদের জয়। তথাকথিত কোনো মেগাস্টার, সুপারস্টার নেই এই সিনেমায়। যিনি মুখ্যচরিত্রে রয়েছেন, তিনি সোহিনী সেনগুপ্ত। এই জয় কনটেন্টের জয়, টিমওয়ার্ক, গল্প, টিমওয়ার্ক, গোটা সিনেমার জয়। যেখানে বলিউড পর্যন্ত ‘কাহানি’ বা ‘ইংলিশ ভিংলিশ’-এর মতো সিনেমা নতুন করে ফিরিয়ে আনতে ভয় পায়। ‘ডার্টি পিকটার’, ‘ক্যুইন’-এর মতো সিনেমা আর হয় না… সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’-এর সাফল্য আমাদের ভরসা যোগায়, সাহস যোগায়। বাংলা সিনেমা, স্বাধীন সিনেমা পরিচালক, প্রযোজকদের জয় হোক।’ প্রসঙ্গত, এই সিনেমায় মুখ্যভূমিকায় অভিনয় করেছেন, সোহিনী সেনগুপ্ত, রাইমা সেন, শ্যামৌপ্তি মুদলি, অনামিকা সাহা, অর্জুন চক্রবর্তী, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঋষভ, সৌম্য ও মিমি চক্রবর্তী।