Last Updated:
Assembly Sign Case: গত ২৮ মে হঠাৎই চৌরঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডির একটি দল৷ জানা যায়, বিধানসভায় তৃণমূলের তরফে দেওয়া একটি চিঠিতে বিধায়কদের হাতের লেখার গরমিল দেখা দেওয়ায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় এ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন বিধানসভার সচিব৷ তারই প্রেক্ষিতে শুরু হয়েছে তদন্ত৷ পরবর্তী ক্ষেত্রে, কুণাল ঘোষ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও যায় সিআইডি৷ বহু তৃণমূল বিধায়কই অভিযোগ তোলেন, সংশ্লিষ্ট বৈঠকের দিন তাঁরা উপস্থিতই ছিলেন না, কীভাবে তাঁদের সই সেখানে রয়েছে তাঁরা জানেন না৷
কলকাতা: গত বুধবার এক ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী থেকেছে পশ্চিমবঙ্গ। এক দিনের মধ্যে একাধিক ঘটনা। পর পর। তৃণমূল ভেঙে দু’ভাগ হয়ে যাওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের সমস্ত কমিটি, পদ অবলুপ্ত করে দেওয়া এবং সবশেষে ছোট লালবাড়ি অর্থাৎ, কলকাতা পুরসভা থেকে মেয়র পদে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ৷ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার দাবি সংক্রান্ত চিঠিতে বিধায়কদের ‘সই’ জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল৷ তার উপর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের বাড়িতে পৌঁছেছে সিআইডি-ও৷ এবার বিধানসভা সই বিতর্কে আরও এক বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহে তৎপর হল সিআইডি৷
রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহের জন্য আদালতে আবেদন সিআইডির৷ জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করবে সিআইডি৷ বিচারকের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে৷
সিআইডি সূত্রে খবর, সমর মুখোপাধ্যায়ের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহের অনুমতি মঞ্জুর হলেই বৃহস্পতিবার অন্য তিন বিধায়কের সাথে তাঁরও হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করা হবে৷
গত ২ জুনই সই জাল কাণ্ডে বড় নির্দেশ দিয়েছিল ব্যাঙ্কশাল আদালত৷ সিআইডি-কে তৃণমূল কংগ্রেসের ৩ বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহে অনুমতি দিয়েছিল। মঙ্গলবার এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের নির্দেশের পরে এবার তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায়, শুভাশিস দাস ও বাহারুল ইসলামদের হাতে লেখা সইয়ের নমুনা জমা দিতে হবে। ব্যাঙ্কশাল আদালতের ১৯ নম্বর কোর্টে তাঁদের সইয়ের নমুনা জমা হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরে সিআইডি-র তদন্তকারীরা স্বাক্ষরগুলির সঙ্গে মূল ব্যক্তির স্বাক্ষর হস্তরেখাবিদ মারফত মিলিয়ে দেখবেন বলে মনে করা হচ্ছে৷
সম্প্রতি খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীই একটি সাংবাদিক বৈঠকে জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাই তাঁদের দলের চিঠিতে সই জাল করার বিষয়টি স্পিকারকে জানিয়েছেন৷ তারপরেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে৷ এরপরেই ওই দু’জনকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল৷
তারপরে গত বুধবার ৫৮ তৃণমূল বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হওয়ার দাবি স্পিকারের কাছে পেশ করেন ঋতব্রত৷ স্পিকার তাঁর দাবিকে মান্যতা দেন৷
