বিটন চক্রবর্তী, পূর্ব মেদিনীপুর: নয়াচরে তৈরি হবে মৎস্যহাব, বেআইনি বসতি হঠাতে পদক্ষেপ করল নতুন বিজেপি সরকার। হলদিয়ার নয়াচরে বেআইনি বসতি হঠাতে পদক্ষেপ করল নতুন বিজেপি সরকার। ১০দিনের মধ্যে দ্বীপ দখলমুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে প্রশাসনের তরফে জারি করা হল নোটিস। নয়াচরে তৈরি হবে মৎস্যহাব, এমনটাই খবর মিলেছে প্রশাসন সূত্রে।
আরও পড়ুন, বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে তুমুল বৃষ্টি, বাজ পড়ে রাজ্যে ৫ জনের মৃত্যু
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, এদের ফায়দা নিয়ে বাংলাদেশি সব ঢুকে আছে। অ্যান্টি সোশাল অ্যাকটিভিটি হচ্ছে এখানে। অবৈধ যাঁরা আছে তাঁদের সবাইকে তুলে সরিয়ে দিতে হবে। যখন টেন্ডার পাবেন তখন মাছ চাষ করবেন।’ নয়াচর। হলদিয়ার অদূরে হুগলি নদীর মোহনা ও হলদি নদীর সংযোগস্থলে প্রায় ৬৪ বর্গ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এক দ্বীপ। অভিযোগ, এখানেই বছরের পর বছর অবৈধভাবে বাস করছেন প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ। দীর্ঘদিনের সেই মৌরসিপাট্টা এবার ভাঙার সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।নয়াচরকে দখলদার মুক্ত করতে দেওয়া হল নোটিস।
আগামী ১০দিনের মধ্যে সব অবৈধ বাসিন্দাদের নয়াচর ছাড়ার জন্য দেওয়া হল নির্দেশ। বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার বিরাট পুলিশ বাহিনী নিয়ে নয়াচর পর্যবেক্ষণে যান। সেখানকার বাসিন্দাদের দরজায় কার্যত কড়া নেড়ে এলাকা খালি করার কথা বলেন তাঁরা। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে ছিলেন হলদিয়ার মহকুমাশাসকও। নয়াচরে বেআইনি দখলমুক্ত করতে তৎপর হল জেলা প্রশাসন। বিশাল পুলিশবাহিনী ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা নয়াচরে ভিজিট করেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এখানে থাকেন। সরকার চাইছে এই জায়গা দখল করে মৎস্য দফতরকে হস্তান্তর করবে।
হলদিয়ার অদূরে মোহনার কাছের এই দ্বীপের নাম প্রথম আলোচনায় আসে নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে আন্দোলনের সময়। বাম আমলে এই নয়াচরেই কেমিক্যাল হাব তৈরি করতে চেয়েছিল তৎকালীন সরকার। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১১-তে ক্ষমতায় আসার পরে নয়াচরে পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বেশ কয়েকবার প্রশাসনিক উদ্যোগও নেওয়া হয়, কিন্তু কাজ সেভাবে এগোয়নি নয়াচরে। এবার সেই নয়াচরেই মৎস্যহাব তৈরি করতে চায় রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, ফিশারি ডিপার্টমেন্ট মাছ চাষ করার জন্য এই জায়গাটা ব্যবহার করবে। ফিশার ডিপার্টমেন্ট অকশন করার জন্য প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।যখন লিগালি আপনি (টেন্ডার) পাবেন, তখন এসে এখানে মাছ চাষ করবেন। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলেন, যাঁরা আছেন এখানে তাঁদের থাকার বৈধতা কতটা আছে সেটা আগে খতিয়ে দেখা হবে। যদি বেআইনিভাবে দখলদার থাকে (তাঁদের) আমরা নোটিস দিয়ে যাঁরা সহযোগিতার মধ্যে যাবেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে লিগাল অ্যাকশন নেওয়া হবে। এখন দেখার হলদিয়ার নয়াচর থেকে দখলদারদের হঠিয়ে কবে থেকে শুরু করা সম্ভব হয় মৎস্যহাব তৈরির কাজ।