Last Updated:
অসমে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১-এ পৌঁছেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ। ২১টি রাজস্ব চক্রের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, জলের তলায় রয়েছে ২১ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি।
গুয়াহাটিঃ অসমে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্যাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১। অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ASDMA)-র তথ্য অনুযায়ী, বন্যার জেরে ২১টি রাজস্ব চক্রের ৫৫১টি গ্রামে ৩ লক্ষ ৩১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্লাবিত হয়েছে ২১ হাজার ৫২৩.০৮ হেক্টর কৃষিজমি।
শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও, সোনিতপুর এবং কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলায় এখনও বন্যার প্রভাব রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরাইদেও।
ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, দমকল, চিকিৎসক দল এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে ৮১টি ত্রাণ শিবিরে ৩২,৪৭৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি ৩৪টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র থেকে খাদ্যশস্য, পানীয় জল, ওষুধ, ত্রিপল, শিশু খাদ্য-সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
বন্যায় মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। আগে ঘোষিত ৪ লক্ষ টাকার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। ফলে মৃত প্রতি পরিবার মোট ৯ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।
এছাড়া ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসারের শংসাপত্রের ভিত্তিতেই ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। কোনও নিখোঁজ ব্যক্তির দেহ এক মাসের মধ্যে উদ্ধার না হলেও সার্কেল অফিসারের শংসাপত্রের ভিত্তিতে তাঁর পরিবারও ৯ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা পাবে।
বন্যার প্রভাবে কৃষিক্ষেত্রেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৪৫ হাজার ৩৪১.৯৮ হেক্টর কৃষিজমি এখনও জলের তলায়। পাশাপাশি বহু বাড়ি, স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং গবাদি পশুর শেড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধনসিরি (দক্ষিণ) নদী নুমালীগড় এলাকায় বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
Kolkata,West Bengal
