Last Updated:
ইতিমধ্যেই বন্যায় নিজেদের ঘরবাড়ি সহ প্রায় সর্বস্ব হারিয়েছেন হৃদীপের বাবা-মা৷ কিন্তু নিজেদের একমাত্র সন্তানকে হারানোর শোকে বাকি সবকিছুই ভুলেছেন তাঁরা৷
ভয়াবহ বন্যায় ফের একবার বিপর্যস্ত অসম৷ এখন পর্যন্ত অসমে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ মানুষ বন্যার কবলিত এলাকাগুলিতে আটকে রয়েছেন৷ অসমের বন্যা এখনও পর্যন্ত ৬৮ জনের প্রাণ কেড়েছে৷ প্রতিদিনই বন্যা কবলিত এলাকাগুলি থেকে একের পর এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে আসছে৷
এরকমই মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হল অসমের নাজারিয়া সাব ডিভিশনের বামুন পুখুরি গ্রামের বাসিন্দা ১৩ বছরের এক স্কুল ছাত্র৷ মৃত ওই কিশোরের নাম হৃদিপ পানিকা৷ বন্যার জলে ভেসে যাওয়া নিজের পোষ্য কুকুর ছানাকে বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই কিশোরের৷ মৃত কিশোর স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল ৷ দীপক এবং পার্বতী পানিকার একমাত্র সন্তান ছিল হৃদীপ৷
হৃদীপদের গ্রামেও হু হু করে বন্যার জল ঢুকতে শুরু করে৷ তখনই ওই কিশোর লক্ষ্য করে, তাদের বাড়ির পোষা তিন মাসের পোষ্য সারমেয় শাবক বোরান জলস্রোতে ভেসে যাচ্ছে৷ সঙ্গে সঙ্গে নিজের বিপদের কথা না ভেবে কুকুর ছানাটিকে বাঁচাতে জলে ঝাঁপ দেয়৷ বোরান বেঁচে গেলেও জলের প্রবল স্রোতে ভেসে যায় হৃদীপ৷
সঙ্গে সঙ্গেই ওই কিশোরের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন উদ্ধারকারীরা৷ পরে হৃদীপের দেহ উদ্ধার হয়৷ একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন হৃদীপের বাবা-মা৷
এই দুর্ঘটনার পর হতভাগ্য পানিকা দম্পতির ভিডিও সমাজমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে৷ ছেলেকে হারানোর শোকে হৃদীপের বাবা দীপক এবং মা পার্বতীর চোখের জল যেন বাঁধ মানছে না৷ যে কুকুর ছানাটিকে বাঁচাতে গিয়ে হৃদীপের এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল, তাকেও চুপচাপ এক কোণে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে৷
হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি অনেকেই৷ একজন লিখেছেন, ‘দেবদূতরা বাস্তবেও থাকে, এই ছেলেটিই তার প্রমাণ!’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘মানুষকে কেন এত যন্ত্রণা পেতে হয়?’
হময় গগৈ নামে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হৃদীপের বাবা-মায়ের কাছে গিয়েছিলেন৷ তিনি প্রায় সর্বস্ব হারানো হৃদীপের বাবা-মায়ের হাতে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য তুলে দেন৷
Kolkata,West Bengal
