Last Updated:
সায়নী সহ এনসিপিআই-তে নাম লেখানো ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ বাতিল করার জন্য লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে ফের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷
নিট কাণ্ডে উত্তাল সংসদ৷ তার মধ্যে তিনি এখন দল বদলে এনডিএ শিবিরে৷ মঙ্গলবারই প্রথমবার এনডিএ-এর বৈঠকেও যোগ দিয়েছেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ৷ তৃণমূল ছেডে় তিনিও নাম লিখিয়েছেন এনসিপিআই-তে৷
এত ব্যস্ততার মধ্যেও মঙ্গলবার সংসদে অন্য মেজাজে পাওয়া গেল যাদবপুরের সাংসদকে৷ বৃষ্টির মধ্যে সংসদ ভবনের ভিতরেই রিল বানালেন সায়নী৷ সেই রিল সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেছেন এনসিপিআই সাংসদ৷ আর তা করা মাত্রই যাদবপুরের সাংসদের উদ্দেশে উড়ে এসেছে একাধিক তির্যক মন্তব্য৷
যদিও সায়নীর এই রিল দেখে ফেসবুকে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘এই যে সংসদে গিয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন, এটাও কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য৷ গিরগিটিও আপনাদের দেখে লজ্জা পাচ্ছে৷ তাই আর বের হচ্ছে না৷’ কেউ কেউ আবার দল বদলের জন্য কটাক্ষ করে সায়নীকে ‘মীরজাফর’, ‘গদ্দার’ বলে বিঁধেছেন৷ তবে যাদবপুরের সাংসদের এই বৃষ্টিস্নাত রিল দেখে প্রশংসাও করেছেন কয়েকজন৷
একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুকরণ করে সাজপোশাক করতে শুরু করা সায়নী ঘোষও তৃণমূলনেত্রীর হাত ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন৷ মঙ্গলবার দিল্লিতে প্রথমবার এনডিএ-এর বৈঠকে ডাক পেয়েছিল এনসিপিআই৷ সেই বৈঠকেও যোগ দেন সায়নী৷ বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আলাদা করে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে কথাও বলেন৷ তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করতে শোনা যায় সায়নীকে৷
যাদবপুরের সাংসদ বলেন, খুবই তথ্য সমৃদ্ধ একটা বৈঠক হল৷ প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাডা়ও অন্যান্য মন্ত্রীরা ছিলেন৷ খুবই ভাল লাগল৷ ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী আমাদের আজকের বৈঠকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তার জন্য আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ৷
সায়নী ঘোষ সহ এনসিপিআই-এর যে সাংসদরা মঙ্গলবার এনডিএ-এর বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের গদ্দার বলে কটাক্ষ করেছেন দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়৷ তিনি বলেন, যাঁরা বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই করবে বলে ভোটে জিতল, আজকে তাঁরাই গিয়ে বিজেপি-র সঙ্গে বৈঠক করছেন৷ এই গদ্দারদের নিয়ে আমি আর কী বলব৷
সম্প্রতি এবিপি নিউজকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সায়নী ঘোষকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরও৷ মমতাকে অনুকরণের পরেও তাঁর সঙ্গ ছাড়া নিয়ে সায়নীকে কটাক্ষ করে প্রশান্ত কিশোর বলেন, বাংলার সিনেমা জগৎ থেকে তুলে এনে সায়নী ঘোষকে ২০২১ সালে তৃণমূল বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করেছিল৷ তিনি তখন পরাজিত হন৷ আমি ওই সময় তৃণমূলের সঙ্গে ছিলাম৷ এর পর দল ওনাকে যুব তৃণমূলের সভাপতি করে৷ উনি ৫ বছর পরিশ্রম করলেন৷ লোকসভা ভোটে জিতলেন৷ কিন্তু ওই ভোটটা সায়নী ঘোষকে দেখে মানুষ দেয়নি৷ ভোটটা পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস৷ এত বড় বড় নেতা যাঁদের বলছেন, তাঁদের দম থাকলে নির্দল হিসেবে ভোটে লড়ুন না৷
Kolkata,West Bengal
