Last Updated:
Bengaluru Daycare Nightmare: আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও কোনও কর্পোরেট সংস্থা তাদের ক্যাম্পাসে চলা শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের দায় সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যেতে পারে না। তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়ে এই অবহেলা কতদিন ধরে চলছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অন্যদিকে, শিশু অধিকার কর্মীরা অভিভাবকদের জন্য বাধ্যতামূলক রিয়েল-টাইম সিসিটিভি লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা এবং রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শনের দাবি তুলেছেন।
বেঙ্গালুরু: আজকাল বেশিরভাগ পরিবারেই বাবা-মা উভয়েই চাকরি করেন৷ অর্থনৈতিক চাপ ভাগাভাগি করে নিয়ে, এ ছাড়া বিশেষ উপায়ও থাকে না৷ বাধ্য হয়েই তাঁদের কেউ কেউ ভরসা করে নিজের বাচ্চাদের রেখে যান বিভিন্ন ডে কেয়ার সেন্টারে৷ এবার সেরকমই এক ডে-কেয়ার সেন্টার ঘিরে ভয়াবহ খবর এল সামনে৷ সিসিটিভি ফুটেজে যে ভয়ঙ্কর তথ্য ফাঁস হল, তা দেখলে শিউরে উঠবেন সকলে৷ এমন পাশবিক? বাচ্চাদের সঙ্গে কেউ এমন করে!
একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে শিশুদের উপরে ধারাবাহিক শারীরিক নির্যাতন ও মানসিকভাবে আতঙ্কিত করার অভিযোগে পাঁচজন মহিলা আয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল বেঙ্গালুরু পুলিশ। শহরের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা-র ক্যাম্পাসের ভিতরে অবস্থিত এই ডে-কেয়ারটি কর্পোরেট শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হয়, যেখানে কর্মরত প্রযুক্তি পেশাজীবীরা অফিসের সময় তাঁদের ছোট বাচ্চাদের সেখানে রেখে যান। কিন্তু ডিজিটাল মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়ার পরই সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস হয়ে যায়। তারপরে সর্বসমক্ষে চলে আসে এই ঘটনা৷
পুলিশ এবং চাইল্ড হেল্পলাইনে দায়ের হওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, দুই থেকে তিন বছর বয়সি শিশুদের চুপ করিয়ে রাখার জন্য এবং ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ওই ডে কেয়ার সেন্টারের পরিচর্যাকারী মহিলারা বাচ্চাদের উপরে নির্মম শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক নিপীড়ন চালাতেন বলে অভিযোগ।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, যে সমস্ত বাচ্চারা কিছুতেই কান্না থামাচ্ছে না, তাদের একটি ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ভিতরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভয় পায়। আরও কিছু ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শিশুদের অন্ধকার বাথরুমে আটকে রাখা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমি ধাঁচের টয়লেট সিটে বসিয়ে রাখা হচ্ছে এবং তারা কান্নাকাটি বা দুষ্টুমি করলে টয়লেট জেট স্প্রে দিয়ে জোর করে তাদের মুখে জল ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ডিজিটাল প্রমাণ এবং শিশু কল্যাণ সংস্থাগুলির প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে জুভেনাইল জাস্টিস (কেয়ার অ্যান্ড প্রোটেকশন অব চিলড্রেন) আইন-এর কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে, শিশুদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই ধরনের নির্যাতন চালানো হতো। যদিও ভাইরাল ভিডিওগুলির ফরেন্সিক পরীক্ষা এখনও চলছে, তবুও অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করেছে পুলিশ।
এই ভয়াবহ ঘটনার জেরে দেশের বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রের কর্পোরেট ও বেসরকারি ক্রেশগুলির উপর সরকারি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কর্মজীবী অভিভাবকদের সংগঠনগুলি অভিযোগ করেছে, ডে-কেয়ারগুলিতে পর্যাপ্ত নজরদারি ব্যবস্থা, কার্যকর সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং চুক্তিভিত্তিক পরিচর্যাকারীদের মানসিক সক্ষমতা যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার গুরুতর ঘাটতি রয়েছে।
