মধ্যমগ্রাম, উত্তর ২৪ পরগনা : এখনও অধরা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনিরা। তদন্তকারীরা বলছেন, আততায়ীদের ধরতে যে CCTV ফুটেজই প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়ায়, তা জোগাড় করতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ, যে রাস্তা দিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেই রাস্তার একাধিক সিসি ক্যামেরা বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। মাঝরাস্তায় গাড়ি আটকে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে। এই হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের পর কেটে গেছে ২ দিন। এখনও অধরা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনিরা। প্রশ্ন উঠছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নিমেষে কোথায় পালাল আততায়ীরা? কেন এখনও ধরা গেল না?
সচরাচর, অপরাধীদের ধরতে তদন্তকারীদের অন্যতম প্রধান অস্ত্র CCTV ফুটেজ। কিন্তু সেই CCTV ফুটেজ জোগাড় করতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তদন্তকারীদের। কারণ, দোহাড়িয়ার মেঠোপাড়া হয়ে যে রাস্তা দিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেই রাস্তার একাধিক সিসি ক্যামেরা পড়ে রয়েছে বিকল হয়ে। দোহারিয়া পেয়ারাবাগান থেকে রাতের অন্ধকারে গলির রাস্তা দিয়ে মোটরবাইকে চেপে পালিয়ে গেছিল আততায়ীরা আর এই আততায়ীদের খোঁজে তল্লাশি চালাতে গিয়ে CCTV ফুটেজই একমাত্র ভরসা তদন্তকারীদের। কিন্তু তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা দেখতে পাচ্ছেন অনেক জায়গায় CCTV ক্য়ামেরা খারাপ তাই তদন্তে বেশ কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ আধিকারিকদের।
প্রায় ৫৫ বছর পর জেলা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ! পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ শপথ শুভেন্দুর
একই ছবি মেঠোপাড়া এলাকাতেও। দোহারিয়ার কাছেই মেঠোপাড়া এলাকায়। সেখানে দেখা গিয়েছে লাইট পোস্টে সঙ্গে লাগানো CCTV ক্য়ামেরা তার মুখই অন্যদিকে ঘোরানো। তদন্তকারীদের ক্ষেত্রে সমস্য়া হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খারাপ। রাস্তার ধারে দোকানে যে সমস্ত সিসি ক্যামেরা থাকে, তার থেকেও সেভাবে ক্লু পাচ্ছেন না তদন্তকারীরা। দুষ্কৃতীরা বাইকে চেপে যশোর রোড ধরে যখন পালিয়ে গেছিল রাতের অন্ধকারে রাস্তার পাশে যে সমস্ত দোকানগুলোর অনেকটাই বন্ধ ছিল। প্রশ্ন উঠছে, অন্ধকারের মধ্য়ে গতিতে বেরিয়ে গেলে সিসি ক্যামেরায় নম্বর প্লেট স্পষ্ট ধরা পড়বে না জেনেই কি, অন্ধকার নামার অপেক্ষা করছিল আততায়ীরা?
রবিবার বিকেলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় বিরাটি মোড় থেকে যশোর ধরে নিসান গাড়িটি মধ্যমগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। তারপর দুষ্কৃতীরা অপেক্ষা করছিল সন্ধে নামার। সন্ধে নামলে গাড়ির নম্বর স্পষ্ট হবে না। এমনই পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে। সিসিটিভি ফুটেজে চন্দ্রনাথ রথের স্করপিওর ঠিক পিছনে দেখা গেছে একটি লাল রঙের গাড়ি। এই গাড়ি ঘিরেও তৈরি হয়েছে রহস্য। তদন্তে সিট গঠন করা হয়েছে। যশোর রোডে রোজের পথ ধরেই নিজের বাড়ি ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। দোহারিয়া এলাকায় ঢোকার সময় সন্দেহজনক একটি লাল গাড়ি দেখা যায় তাঁর গাড়ির পিছনে। এই গাড়িটি অনুসরণ করছিল চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি। সন্দেহজনক ওই লাল গাড়ির খোঁজ চলছে। সব মিলিয়ে সময় যত এগোচ্ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।