Last Updated:
কাটোয়া শহরে শুরু হল একটি বিশেষ উদ্যোগ দাবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।এই প্রথম পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল দাবা শেখানোর এমন একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে ছোট থেকে বড় সকলেই দাবার কৌশল ও নিয়ম শিখতে পারবেন।
পূর্ব বর্ধমান: প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান দাপটে আজকের প্রজন্মের বড় একটি অংশ ধীরে ধীরে মোবাইল ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমের প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে মোবাইল আসক্তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, এর ফলে পড়াশোনায় মনোযোগের ঘাটতি, ধৈর্যের অভাব এবং চিন্তাশক্তির বিকাশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের মানসিক বিকাশ, একাগ্রতা বৃদ্ধি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে উৎসাহিত করতে কাটোয়া শহরে শুরু হল একটি বিশেষ উদ্যোগ দাবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।এই প্রথম পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল দাবা শেখানোর এমন একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে ছোট থেকে বড় সকলেই দাবার কৌশল ও নিয়ম শিখতে পারবেন। ভারতের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব জুড়ে জনপ্রিয়।
তবে কাটোয়া শহরে এতদিন দাবা চর্চার জন্য কোনও নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল না বললেই চলে। সেই অভাব পূরণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্থার সদস্য অনির্বাণ দত্ত বলেন, “প্রথম শহরের বুকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি অনেকেই উদ্যোগী হবে এবং দাবা খেলা শিখবে আর এই খেলার প্রসার আরও বৃদ্ধি পাবে।”
পূর্ব বর্ধমান জেলা স্পোর্টস অ্যান্ড ফিজিক্যাল কালচার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে কাটোয়া শহরের সুবোধ স্মৃতি রোড এলাকায় এই দাবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সপ্তাহে একদিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও খুব শীঘ্রই সপ্তাহে দুদিন ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।শুধুমাত্র একটি খেলা হিসেবেই নয়, বরং মস্তিষ্কের বিকাশ ও ব্যক্তিত্ব গঠনের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দাবাকে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত দাবা চর্চার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে একাগ্রতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে।দাবা খেলা একজন মানুষের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে নানা ভাবে সহায়তা করে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল,যুক্তিসঙ্গতভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, স্মৃতিশক্তি উন্নত হয়, ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বাড়ে, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি হয়, মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায় এছাড়াও আরও বিভিন্ন উপকারিতা রয়েছে। প্রশিক্ষক সৌজাত্য দাস বলেন, “আমরাও এইভাবে দাবা শেখার সুযোগ পায়নি। তবে এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। অনেকেই ইতিমধ্যে ভর্তি হয়েছে।”উদ্যোক্তাদের আশা, এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে কাটোয়া শহরের বহু শিশু ও কিশোর দাবার প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং মোবাইলের গণ্ডি ছেড়ে বুদ্ধিবৃত্তিক খেলাধুলার দিকে এগিয়ে আসবে।
ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হয়েছে।দাবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হতে যোগাযোগ করা যেতে পারে 7001421783 নম্বরে। কাটোয়া শহরে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবক মহল, শিক্ষাবিদ এবং ক্রীড়াপ্রেমীরা। তাঁদের মতে, আগামী দিনে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে নতুন প্রতিভা উঠে আসার পাশাপাশি শিশুদের মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে দাবা।
Banowarilal Chowdhary
Kolkata,West Bengal