Last Updated:
West Medinipur Civic Volunteer: পেশায় তিনি সিভিক ভলেন্টিয়ার, কিন্তু নেশা ফুটবল। খেলোয়াড় হিসেবে শুরু করে আজ মাঠের অন্যতম সেরা রেফারি পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার সন্তু মণ্ডল।
বেলদা, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: বাড়িতে বাবা আর জ্যেঠতুতো দাদাকে ফুটবল খেলতে দেখেই প্রথম মাঠের প্রতি ভাল লাগা শুরু হয়েছিল সন্তু মণ্ডলের। সেই নেশায় আজ পেশার পাশাপাশি তাঁর জীবনের প্রধান পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলদা থানার অন্তর্গত আসন্দা গ্রামের এক সামান্য মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান সন্তু। পেশাগতভাবে তিনি পুলিশের সিভিক ভলেন্টিয়ার ঠিকই, কিন্তু তাঁর মন জুড়ে রয়েছে ফুটবল মাঠ। খেলোয়াড় থেকে রেফারি, এই দীর্ঘ পথচলায় মূল চালিকাশক্তি ছিল তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
স্কুল জীবন থেকেই ফুটবলের সঙ্গে হাতেখড়ি সন্তুর। বাবা ও দাদাদের অনুপ্রেরণায় প্রথম পাড়ার মাঠে নামা। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রতিভার জোরে বিদ্যালয় স্তর থেকে ব্লক ও জেলা স্তর পেরিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন নামী দলের হয়েও ফুটবল খেলেছেন তিনি। গ্রামের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলার নানা প্রান্তে খেলার সেই অভিজ্ঞতাকেই আজও নিজের জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি বলে মনে করেন তিনি।
খেলোয়াড়ি জীবন থিতু হওয়ার পর মাঠের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি সন্তু। বরং খেলার সঠিক নিয়ম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিজেই এগিয়ে আসেন গুরুদায়িত্ব নিতে। উপযুক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি ফুটবল রেফারির কাজ করছেন। কখনও প্রধান রেফারি, আবার কখনও লাইন্সম্যান হিসেবে মাঠ পরিচালনা করেন তিনি। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের কারণে খেলোয়াড় ও টুর্নামেন্ট আয়োজকদের কাছেও সন্তু মণ্ডল এক বিশেষ শ্রদ্ধার নাম।
বর্তমানে পেশাগত কারণে তিনি সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসেবে কর্মরত। পুলিশের কঠিন ডিউটি আর সংসারের হাজারও দায়িত্ব, এত কিছুর মধ্যেও ফুটবলের টান তাঁকে বারবার ফেরায় চেনা সবুজ ঘাসে। শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে বাঁশি হাতে মাঠে ছুটে যান তিনি। সন্তু মণ্ডলের এই লড়াই প্রমাণ করে দেয়, নিষ্ঠা থাকলে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও উঠে আসা যায় বড় মঞ্চে। তাঁর এই জীবনকাহিনি আজকের তরুণ ফুটবলারদের কাছে এক অনন্য প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Paschim Medinipur,West Bengal