Last Updated:
East Bardhaman News: বহুল আলোচিত আরসিদা খাতুন হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করল আদালত। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জেরে চলন্ত বাসে নাবালিকাকে শেষ করে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। যদিও তাদের দাবি ছিল আরও কঠোর শাস্তির।
কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার ‘অপরাধে’ চলন্ত যাত্রীবাহী বাসের মধ্যেই নৃশংসভাবে খুন হতে হয়েছিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আরসিদা খাতুনকে। প্রায় এক বছর পর সেই বহুল আলোচিত মামলায় দোষী ইজাজুল শেখ ওরফে বাবুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল কাটোয়া ফাস্ট ট্র্যাক আদালত। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর।
পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের কোমরপুর স্টেশনের কাছে একটি চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে মাসির সঙ্গে যাচ্ছিল ১৪ বছরের আরসিদা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইজাজুল তাকে অনুসরণ করত এবং বিয়ের জন্য চাপ দিত। নাবালিকা হওয়ায় পরিবার সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। সেই ক্ষোভ থেকেই প্রকাশ্য দিবালোকে চলন্ত বাসের মধ্যেই ধারাল অস্ত্র দিয়ে আরসিদার গলায় আঘাত করে অভিযুক্ত। গুরুতর জখম অবস্থায় সে বাসের মধ্যেই লুটিয়ে পড়ে। পরে তার মৃত্যু হয়।
আদালত সমস্ত দিক বিবেচনা করেই দোষীকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে। তাঁর দাবি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৩(১) ধারায় কাটোয়া আদালতে এটি প্রথম গুরুত্বপূর্ণ রায়গুলির মধ্যে অন্যতম। এই রায়ে স্বস্তি পেলেও আরসিদার পরিবার জানিয়েছে, তাদের মেয়েকে আর কোনওদিন ফিরে পাওয়া যাবে না। তবে তারা আশা করছে, এই শাস্তি ভবিষ্যতে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেবে এবং অন্য কোনও পরিবারকে যেন এমন অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়। আদালতের এই রায়কে তাই অনেকেই নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
