Last Updated:
Husband-Wife Love: দুজনেই বিশেষভাবে সক্ষম। উপার্জন বলতে এখন কিছুই নেই। মাথার ওপর স্থায়ী ছাদ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু মাঝপথেই থেমেছে সেই কাজ। বর্ষায় বেড়েছে দুর্ভোগ। কিন্তু বৃদ্ধ দম্পতি এই পরিস্থিতিতেও পালন করছেন সংসার ধর্ম। অন্যের সহায়তায় কোনওক্রমে জুটছে খাবার। স্থানীয়রা দ্রুত ওই দম্পতির সরকারি সাহায্য চালু করার আবেদন জানিয়েছেন।
জামুরিড়া, পশ্চিম বর্ধমান: ভালবাসার কোনও বয়স হয় না। এটা ছবি তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। জামুড়িয়া ব্লকের চিচুড়িয়া গ্রামের নিচুপাড়ায় পা রাখলেই চোখ আটকে যায় এই দম্পতির দিকে। সেখানে এক চিলতে ত্রিপলের আড়ালে জীবন সংগ্রাম বিশেষভাবে সক্ষম দম্পতির। ৫৭ বছরের বিশেষভাবে সক্ষম সন্ধ্যা ব্যানার্জী এবং তাঁর ৬৭ বছরের দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তিহীন স্বামী সুব্রত ব্যানার্জী। বয়স ও শারীরিক অক্ষমতা তাঁদের উপার্জনের পথ অনেক আগেই কেড়ে নিয়েছে।
চোখের আলো না থাকলেও স্ত্রীর হাত ধরে অন্ধকারের পথ পার হওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বৃদ্ধ। অপরিসীম ভালবাসা ও পারস্পরিক ভরসা এই প্রবীণ দম্পতির প্রতিদিন বেঁচে থাকার মূল সম্বল। এক সময় মাথার ওপর যে জীর্ণ কুঁড়েঘরটি ছিল, জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সেখানে শুরু হয়েছিল স্থায়ী বাড়ি তৈরির কাজ। সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় তাঁদের একটি ঘর মঞ্জুর হয়েছিল। প্রথম কিস্তির ষাট হাজার টাকা হাতে পেয়ে শুরু হয়েছিল নতুন ঘর তৈরির কাজ। নিজেদের পুরনো জীর্ণ ঘরটি ভেঙে ফেলেছিলেন তাঁরা।
তবে পরবর্তী কিস্তি না পাওয়ায় আপাতত নির্মাণকাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে। তাই ইট-সিমেন্টের কাঠামোয় ত্রিপল টাঙিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে দম্পতিকে। নিজেদের শারীরিক সামর্থ্য না থাকায় দু’বেলা খাবারের জন্য প্রতিবেশী, আবার কখনও সাধারণ মানুষের ওপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে তাঁদের। বিগত কয়েকমাস স্বামী-স্ত্রীর বার্ধক্য ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা বন্ধ রয়েছে। ফলে এখন উপার্জন বলতে কিছুই নেই। প্রক্রিয়াগত কারণে সাময়িক এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাঁদের। যদিও আগামী পয়লা অগাস্ট থেকে এই ভাতা আবার চালু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক সমস্যা আবার কেটে যাবে বলেই আশা।
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে সঙ্গী করে জীবনসংগ্রামে টিকে থাকা দম্পতির এই সহনশীলতা গ্রামের মানুষের নজর কেড়েছে। প্রতিবেশীদের সহানুভূতি এবং সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা। সকলেই চাইছেন যেন দ্রুত আবার এই দম্পতি সরকারি সুবিধা পেতে শুরু করেন। অন্যদিকে, অর্ধসমাপ্ত ঘরটিও যাতে খুব শীঘ্রই স্বপ্নের বাড়িতে পরিণত হয়, সেটাও চাইছেন তাঁরা। তাহলে এই বৃদ্ধ দম্পতি শান্তিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবেন।
Asansol,Barddhaman,West Bengal
