ভারত ও পাকিস্তানে LPG সিলিন্ডারের দামের বিশাল পার্থক্য
ভারত ও পাকিস্তানের LPG সিলিন্ডারের তুলনা করলে ওজন এবং দামের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য চোখে পড়ে। ভারতে সাধারণ গৃহস্থালির LPG সিলিন্ডারের ওজন ১৪.২ কেজি। অন্যদিকে পাকিস্তানে গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য যে সিলিন্ডার দেওয়া হয়, তার ওজন মাত্র ১১.৮ কেজি, যাকে সাধারণভাবে ১২ কেজির সিলিন্ডার বলা হয়।
ওজন কম হলেও পাকিস্তানের মানুষকে এর জন্য অনেক বেশি দাম দিতে হচ্ছে। জুন ২০২৬-এ ভারতে একটি LPG সিলিন্ডারের সরকারি দাম ₹৯১৩। অন্যদিকে পাকিস্তানে একই ধরনের সিলিন্ডারের জন্য সরকারি দরে ₹৩,০০০ থেকে ₹৩,৫৮৯ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। প্রতি কেজি হিসেবে ভারতে LPG-র দাম প্রায় ₹৬৪, কিন্তু পাকিস্তানে তা ₹২৫৪ থেকে ₹৩০৪ পর্যন্ত পৌঁছেছে। কালোবাজারে এই দাম ₹৪,৫০০ থেকে ₹৫,৫০০ পাকিস্তানি রুপিরও বেশি।
পাকিস্তানের তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রক সংস্থা Oil and Gas Regulatory Authority (OGRA)-র তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশে LPG-র দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
মে ২০২৫: প্রায় ₹২,১০০
জানুয়ারি ২০২৬: ₹২,৫৯২
মার্চ ২০২৬: ₹২,৬৬৪
এপ্রিল ২০২৬: ₹৩,৫৮৯
শুধুমাত্র এপ্রিল মাসেই প্রায় ৩৫% দাম বেড়েছিল। এর প্রধান কারণ ছিল হরমুজ সংকটের ফলে Saudi Aramco তাদের গ্যাসের দাম ৪৪% পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া। যদিও মে ২০২৬-এ কিছুটা স্বস্তি মিলেছে এবং দাম ₹২,৯৫০ থেকে ₹৩,০০০-এর মধ্যে নেমে এসেছে।
গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের খাবারের খরচে। পাকিস্তানের বড় শহর করাচিতে তন্দুর ও হোটেল মালিকরা রুটি ও চাপাটির দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
বর্তমানে সেখানে—
সাধারণ রুটি: ২৫ টাকা
বড় রুটি: ৩০ টাকা
চাপাটি: ২০ টাকা
পাকিস্তানের বহু এলাকায় পাইপলাইনের সুই গ্যাস (Sui Gas) পৌঁছায় না। ফলে মানুষকে LPG সিলিন্ডারের উপরই নির্ভর করতে হয়। এই সুযোগে অনেক ব্যবসায়ী সরকারি দামের চেয়ে ৫০% থেকে ৬০% বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন।
পাকিস্তান LPG অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব Sajid Khan দাবি করেছেন, দেশে
প্রকৃতপক্ষে গ্যাসের ঘাটতি নেই। তাঁর অভিযোগ, কিছু আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে কালোবাজারে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন।
তাঁর মতে, অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষকে একটি সিলিন্ডারের জন্য ₹১৬,০০০ থেকে ₹১৮,২০০ পর্যন্তও দিতে হয়েছে।
পাকিস্তান তার প্রয়োজনীয় LPG ও LNG-এর ৯৯% আমদানি করে Qatar এবং United Arab Emirates থেকে। এই জ্বালানি জাহাজে করে আসে এবং হরমুজ প্রণালী পেরিয়েই পাকিস্তানে পৌঁছায়।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তানে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। মার্চের শেষে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম সচিব জানান, দেশের হাতে মাত্র ৫ দিনের LPG এবং ৭ দিনের তেলের মজুত অবশিষ্ট ছিল।
সঙ্কট মোকাবিলায় Shehbaz Sharif সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়—
সপ্তাহে মাত্র ৪ দিন সরকারি অফিস খোলা স্কুল-কলেজ সাময়িকভাবে বন্ধ অনেক ক্ষেত্রে Work From Home চালু বাজার ও দোকানের খোলার সময় কমানো ভারত কীভাবে পরিস্থিতি সামলাল?
অন্যদিকে ভারত তুলনামূলকভাবে অনেক ভালভাবে পরিস্থিতি সামলেছে। হরমুজ সঙ্কটের পরও সরকার গৃহস্থালির LPG সিলিন্ডারের দাম মাত্র ₹৬০ বাড়িয়েছিল এবং পরে তা ₹৯১৩-এ স্থিতিশীল রাখা হয়।
ভারত বিকল্প উৎস হিসেবে United States এবং Canada থেকে গ্যাস আমদানি বাড়ায়। পাশাপাশি দেশীয় রিফাইনারিগুলিতে উৎপাদনও বাড়ানো হয়, ফলে পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
হরমুজ সঙ্কটের জেরে পাকিস্তানে LPG-র দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। কম ওজনের সিলিন্ডারের জন্যও ভারতীয় দামের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত মজুতের কারণে ভারত এই সঙ্কটের প্রভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।