Last Updated:
মজিবুর বলেন, “শীতের রাতে বা দুপুরের তপ্ত রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটা যে কতটা যন্ত্রণার, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। তবুও মনে বিশ্বাস ছিল, একদিন পরিবর্তন আসবেই এবং আমার ইচ্ছে পূরণ হবে।”
মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: খালি পায়ে পথচলা। শীতের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, গ্রীষ্মের তপ্ত রাস্তা কিংবা বর্ষার কর্দমাক্ত পথ, কোনও কিছুই টলাতে পারেনি তাঁর জেদকে। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। ডোমকলের রায়পুর অঞ্চলের মোক্তারপুর কারিগরপাড়ার বাসিন্দা মজিবুর শেখ দীর্ঘ ছয় বছর পর ফের পায়ে চটি পরলেন। শনিবার রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর রবিবার বিকেলে গ্রামবাসীদের খিচুড়ি খাইয়ে এবং দুধ দিয়ে পা ধুয়ে নিজের প্রতিজ্ঞা ভাঙলেন তিনি।
মজিবুর শেখ জানান, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এক কঠিন শপথ নিয়েছিলেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, “আগের সরকার ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত পায়ে কোনো জুতো বা চটি স্পর্শ করব না।” ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই সরকার পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলেও মজিবুর তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে অনেকে তাঁকে উপহাস করেছেন, কেউবা পাগল বলেছেন, কিন্তু তিনি নিজের বিশ্বাস থেকে একচুলও সরেননি। পেশায় হকার মজিবুর প্রতিদিন মোটরসাইকেলে করে ডোমকল, জলঙ্গি, করিমপুর ও বক্সীপুর ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ব্যবসা করেন। জুতোহীন সেই জীবনযুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। মজিবুর বলেন, “শীতের রাতে বা দুপুরের তপ্ত রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটা যে কতটা যন্ত্রণার, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। তবুও মনে বিশ্বাস ছিল, একদিন পরিবর্তন আসবেই এবং আমার ইচ্ছে পূরণ হবে।”
অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসায় রবিবার মজিবুরের বাড়ির উঠোনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে দুধ দিয়ে পা ধুয়ে শুদ্ধিকরণ করার পর নতুন এক জোড়া হাওয়াই চটি পায়ে দেন তিনি। এই মুহূর্তটি দেখে উপস্থিত প্রতিবেশীদের চোখেও জল আসে। নিজের আনন্দ ভাগ করে নিতে এদিন গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় এক বিশাল ভোজের আয়োজন করা হয়। প্রায় ছয় শতাধিক মানুষকে খিচুড়ি খাওয়ান তিনি। নতুন চটি পরার পর মজিবুরের চোখেমুখে তখন তৃপ্তির হাসি। পা জোড়া ঘষতে ঘষতে তিনি বলেন, “ছয় বছর পর পা দুটো যে কী আরাম পেল, তা শুধু আমিই বুঝতে পারছি। আজ আমার দীর্ঘ লড়াই সার্থক হল।”
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal