যদিও মোদির পোস্টের পরেও নিজেদের দাবির অবস্থানে অবিচল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)৷ প্রধানমন্ত্রীর পোস্টকে রিপোস্ট করে তাঁদের বার্তা, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হবে৷’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে সিজেপি (CJP)-র চলমান আন্দোলনের মধ্যে বৃহস্পতিবার বলেন, দেশের যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি আরও জানান, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে।
এক্স (X)-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন—
“যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমাদের ধারাবাহিক উদ্যোগেরই এটি একটি অংশ।
যারা আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাইবে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”
এই সপ্তাহের শুরুতে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদ অভিমুখে মিছিল করার পর, নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁস বিতর্ক নিয়ে প্রথমবার মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পিটিআই (PTI)-এর সূত্র অনুযায়ী, তিনি প্রশ্নফাঁসকে ‘ঘোর পাপ’ বলে অভিহিত করেন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার ওপর জোর দেন।
এনডিএ (NDA) সংসদীয় দলের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ যাতে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।”
রিজিজু আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও প্রশ্নফাঁসের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে কেন্দ্র ও সব রাজ্য সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “এটি কোনও রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, এটি জাতীয় স্বার্থের বিষয়।”
রিজিজুর দাবি, প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন যে, প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অভিজ্ঞ (ধুরন্ধর) আইনজীবীদের নিয়োগ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কমাতে বিলম্ব না করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সবচেয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য নির্ভুল ও শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ব্যবস্থায় বৃহত্তর জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি, নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
বিরোধী দলগুলির সমর্থিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে দিল্লি পুলিশ বাধা দেওয়ার পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সেই সময় সংঘর্ষ, আহত হওয়ার ঘটনা, আটক এবং একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়।
এদিকে, জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক, যিনি টানা ২৬ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁকে আন্দোলনের মাঝেই দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁকে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।