Last Updated:
Natural Colours: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা আম, জাম, পলাশ ফুল ও অর্জুন গাছের শিকড় সহ প্রায় ৪০০টি উদ্ভিদ থেকে বাণিজ্যিকভাবে প্রাকৃতিক রং তৈরির উপায় আবিষ্কার করেছেন। উদ্ভিদ ও বনবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অমলকুমার মণ্ডলের নেতৃত্বে ২০০৯ সাল থেকে চলা এই গবেষণার তথ্য ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকা ‘ডিসকভার প্ল্যান্টস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: অর্জুন গাছের শিকড়, বেতের তন্তু, বাসক পাতার রস, পলাশ ফুলের পাপড়ি কিংবা রোজকার চেনা বিট, গাজর, আম, জাম থেকে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হতে পারে রং। অবাক লাগলেও এমনই প্রায় চারশোটি প্রাকৃতিক রঞ্জকযুক্ত উদ্ভিদের সন্ধান দিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। তাঁদের এই যুগান্তকারী গবেষণার কথা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকা ‘ডিসকভার প্ল্যান্টস’-এ প্রকাশিত হয়েছে। পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বা খাদ্যদ্রব্য, সর্বত্রই এবার ক্ষতিকারক কৃত্রিম রঙের বদলে ব্যবহার করা যেতে পারে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ও সহজলভ্য এই প্রাকৃতিক রং।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার আগামী দিনে সমগ্র দেশের রং শিল্পে এক বিরাট বিপ্লব আনতে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ ও বনবিদ্যা বিভাগের বরিষ্ঠ অধ্যাপক অমলকুমার মণ্ডলের নেতৃত্বেই এই অসাধ্য সাধন করেছেন গবেষকরা। এর আগে মানবদেহে সেলাইয়ের উপযোগী উদ্ভিজ্জ তন্তু আবিষ্কার করেও তাক লাগিয়েছিলেন তাঁরা। অধ্যাপক মণ্ডল জানান, ২০০৯ সাল থেকে তাঁর অধীনে একদল উৎসাহী পড়ুয়া প্রাকৃতিক রং বা ন্যাচারাল ডাই নিয়ে নিরলস গবেষণা করে চলেছেন।
শুরুতে জঙ্গলমহলের গাছপালা নিয়ে কাজ শুরু হলেও ধীরে ধীরে গোটা ভারতবর্ষের রং উৎপাদনকারী উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা বিস্তৃত হয়। তাঁর মতে, সারা দেশের প্রাকৃতিক রং উৎপাদনকারী উদ্ভিদকে এক ছাতার তলায় এনে এমন বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা এই প্রথম। শতাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে সপুষ্পক উদ্ভিদ, নগ্নবীজী উদ্ভিদ থেকে শুরু করে লাইকেন, সব ধরনের উদ্ভিদের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ও উৎপাদন পদ্ধতির একটি সুবিশাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করেছেন তাঁরা।
উপাচার্য দীপককুমার কর জানিয়েছেন, ভারতের বুকে এত বড় মাপের এই গবেষণা বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করল। এই প্রাকৃতিক রং শুধুই বস্ত্রশিল্পে নয়, খাদ্য, প্রসাধনী, ওষুধ, চামড়া শিল্প, হাতে তৈরি কাগজ থেকে শুরু করে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ের মত গ্রিন টেকনোলজির কাজেও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা যাবে। গবেষকদের মতে, এতদিন রাসায়নিক কৃত্রিম রঙের ব্যবহারে যে বিপুল পরিবেশ দূষণ হত, তার এক চমৎকার বিকল্প হতে পারে এই আবিষ্কার। এর ফলে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করার এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল।
Paschim Medinipur,West Bengal
