প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, তাকে আমি স্বাগত জানাই। এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে গুরুতর অর্থনৈতিক বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং বহু দেশে প্রাণহানির কারণ হয়েছে’।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন সংঘাত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথকে প্রভাবিত করেছে।
তিনি লেখেন, ‘ভারত আশা করে যে, এই সমঝোতার বাস্তবায়ন অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে এবং নৌ-চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে’।
প্রধানমন্ত্রী আরও আশাবাদী হয়ে বলেন, এখনও যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে, তা শেষ পর্যন্ত অবশ্যি একটি বৃহত্তর ও স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোবে।
তিনি বলেন, ‘অবশিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা একটি টেকসই চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি’।
আমেরিকা ও ইরানি আধিকারিকেরা সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, তাঁরা যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্ট মোদির৷
যদিও এই চুক্তি এখনও একটি প্রাথমিক কাঠামো মাত্র, তবুও ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এই অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করে লিখেছেন,‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ হয়েছে’।
এই ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যার দেশ এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে, জানান যে একটি সমঝোতার দিকে এগোনো গিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমঝোতা স্মারক (Memorandum of Understanding বা MoU) আগামী ১৯ জুন, শুক্রবার, সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। যদিও চুক্তির অনেক বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি, শাহবাজ শরিফ বলেন যে এই চুক্তিতে, “লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার” কথা বলা হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও জানিয়েছে যে, সোমবার রাত থেকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানান, প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বৃহত্তর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয়পক্ষই পরবর্তী দফার আলোচনায় এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।