Last Updated:
তদন্তকারীদের সন্দেহ, চেতনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি তিনি কেতনকে হত্যার ষড়যন্ত্রেও জড়িত ছিলেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, গত বছর দীপাবলির একটি অনুষ্ঠানে সিয়া ও চেতন চৌধুরীর প্রথম পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।
পুণে: এখন অনেক মিলেনিয়াল ও জেন জি প্রজন্ম নিজেদের জীবনসঙ্গী নিজেরাই বেছে নেয়৷ তবুও ভারতে সম্বন্ধ করে বিয়ে এখনও একটি প্রচলিত প্রথা৷ আর সেখানে প্রায়শই পরিবারগুলোই উপযুক্ত পাত্র বা পাত্রী খোঁজার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সিয়া গোয়ালের মামা ও মামি, নরেন্দ্র মিত্তাল ও রেনু মিত্তাল, পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তাঁরা পুলিশকে জানান, সিয়াকে কেতনের হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে জানতে পেরে তারা হতবাক হয়ে গেছেন। তাঁরা বলেন, ‘তাঁরা কখনো কল্পনাও করেননি যে সিয়া এমন একটি কাজ করতে পারে।’ সূত্রমতে, নরেন্দ্র মিত্তল তদন্তকারীদের জানিয়েছেন যে সিয়া ও কেতন দুজনকেই সুশীল, বিনয়ী ও সজ্জন বলে মনে হয়েছিল।
যত দিন যাচ্ছে, তত যেন জটিল হচ্ছে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড৷ কেতন আগরওয়ালের পরিবার সিয়া গোয়েল এবং চেতন চৌধুরীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলেন অবশেষে। অভিযোগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, পুনের লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার আগে সিয়া অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন৷ কেতনের বাবা বিশাল দেবীচাঁদ আগরওয়াল এফআইআর-এ অভিযোগ করেছেন, কেতন সম্প্রতি পরিবারকে জানিয়েছিল সিয়া অস্বাভাবিক আচরণ করছে এবং সামান্য বিষয়ে প্রায়ই মেজাজ দেখাচ্ছে৷ ২৩জুনের এফআইআর-এ আরও দাবি, ৪ঠা জুন কেতন সিয়াকে নিয়ে যেতে রাজি না হওয়ায় তারা লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার পরিকল্পনাটি বাতিল করে দেয়৷ এর ফলে সিয়া অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়ে।
কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়ালের দাবি, মাথার ‘পরচুলার’ জন্যই হয়তো তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছে সিয়া ও তার প্রেমিক! শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই দাবি করলেন মৃত কেতনের বাবা পুণের ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়াল৷ সাংবাদিকদের সামনে ধরা গলাতেই তিনি বলেন, ‘‘আমরা আগেই সিয়া গোয়ালের পরিবারকে জানিয়েছিলাম যে কেতন মাথায় একটি ছোট হেয়ার প্যাচ ব্যবহার করে। কিন্তু এটা কি কাউকে খুন করার মতো কারণ হতে পারে?’’ পুনেতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের সঙ্গে দেখা করেছেন ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়াল৷ তিনি জানালেন, ‘‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি, অভিযুক্তদের যেন অন্তত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, মামলার দ্রুত বিচার হবে। এছাড়াও আমাকে জানানো হয়েছে যে এই মামলায় একটি SIT গঠন করা হয়েছে।’’
১৮ জুন পুণের কাছে লোহাগড় দুর্গে একটি খাদে পড়ে মারা যান কেতন। প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে মনে করা হয়েছিল, কারণ সিয়া কেতনের পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে ট্রেকিংয়ের সময় তিনি পা পিছলে খাদে পড়ে গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য ঘুরে যায় তদন্তের মোড়৷
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
