Last Updated:
Shatabdi Roy to Mahua Moitra: শতাব্দী রায়ের দাবি, ‘‘সমস্যা হচ্ছে আমাদের নামে কোনও প্রমাণ নেই। কিন্তু উনি বলে চলেছেন একা। কিন্তু সারা দেশ, সারা পৃথিবী জানে হীরানন্দানির থেকে টাকা খাওয়ার জন্যে, ঘুষ নেওয়ার জন্য সাংসদ পদ খারিজ হয়েছিল ওনার। শুধুমাত্র টাকা নেওয়ার জন্যে।’’
কলকাতা: কালীঘাটের কার্যালয়ে এসে গত শনিবার বিদ্রোহী সাংসদদের সরাসরি ‘গদ্দার’ বলে দেগে দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র৷ তাঁর করা একাধিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সদ্য এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার৷ এবার প্রাক্তন দলীয় সতীর্থের উদ্দেশ্যে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে ছাড়লেন না শতাব্দী রায়ও৷
মহুয়া মৈত্র সম্পর্ক কথা বলতে গিয়ে এদিন তৃণমূল সাংসদেরল বিরুদ্ধে থাকা পুরনো অভিযোগ তুলে ধরেন শতাব্দী৷ কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘‘মহুয়া মৈত্র মানে কোন মহুয়া? হীরানন্দানির মহুয়া না? উনি আসলে যেমন পরিবেশে বড় হয়েছেন বা যেমন পরিবেশে জীবন কাটান, সেভাবেই সামনের মানুষকে দেখেন। উনি আমাদের সম্পর্কে যা বলছেন, তার কোনও প্রমাণ নেই। ওনার বিরুদ্ধে আমাদের কী করার আছে তা আমরা দেখে নেব।’’
মহুয়া মৈত্রের তোলা একাধিক অভিযোগের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে সদ্য এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘‘ (মহুয়া মৈত্র) হীরানন্দানির থেকে টাকা নিয়েছে, নানা রকম নামী দামী ব্যাগ নিয়েছে, বাড়ি সংস্কারের জন্য নিয়েছে। এগুলো সব প্রমাণিত, আমি বলছি না। দেশের সাথে দেশদ্রোহিতা করেছে। এই ২০ জনের নামে এমন অভিযোগ নেই, সাংসদ পদ চলে গেছে এমন অভিযোগ নেই। ফলে উনি যা বলছেন তাতে উনি ওনার মতো করে ভাবছেন, যেমন ডিল উনি করে এসেছেন। সেই ডিলিং অন্যরা করছে বলে উনি ভাবছেন।’’
শতাব্দী রায়ের কটাক্ষ, ‘‘আমি এতদিন ওনার সম্পর্কে কিছু বলিনি। উনি দিনের পর দিন অসভ্যতা করে যাচ্ছেন। ফাঁকা মাঠে এখন ভাবছে লিডার হব। বাকি ওনার সম্পর্কে কিছু জানতে হলে, কল্যাণ ব্যানার্জির যে পুরানো ইন্টারভিউ ওনাকে নিয়ে আছে সেগুলো চালিয়ে দিন।’’
এরপরেই বেনজির কটাক্ষ টলিউডের প্রাক্তন নায়িকা শতাব্দী রায়ের৷ মহুয়া মৈত্র সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘উত্তম কুমারের হিট ছবি ছিল কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী, উনি হলেন কলঙ্কিনী মহুয়াবতী। ওনার এত ইতিহাস সবাই জানে। এরপরে উনি কোন মুখে প্রমাণ ছাড়া এতগুলো কথা বলছেন? প্রমাণ দিয়ে আমরা বলছি উনি কী কী করেছিলেন। সবাই সেটা জানে। উনি নিজে চোর, উনি নিজে ঘুষ খেয়ে সাংসদ পদ থেকে প্রথমবারেই বিতাড়িত হয়েছিলেন। এটা তো ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। একবার সাংসদ হয়ে, প্রথম বারেই যা সব করেছে। উনি কোন মুখে আমাদের বিরুদ্ধে বলছেন সেটা আমাদের খুব জানার ইচ্ছে।’’
কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধির হাত ধরেই রাজনৈতিক জীবনে পা রাখেন মহুয়া৷ পরবর্তী কালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ৷ তাঁর দলবদলের ইতিহাস মনে করিয়ে শতাব্দী রায়ের কটাক্ষ, ‘‘উনি নিজে কংগ্রেসের সাথে ছিলেন তাই না! উনি দলবদলু। যখন দেখলেন কংগ্রেসে কিছু হওয়ার নেই। কৃষ্ণনগরের টিকিট পাচ্ছেন না, তখন উনি সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের পিছু পিছু ঘুরে কংগ্রেসে এসেছেন। উনি কোন মুখে এই সব বলছেন। ওনার থেকে বাকি ২০ জন বেশি সম্মানীয়। সেখানে উনি যা খুশি বলে নেত্রী হতে চাইছেন। ওনার ইতিহাস ভারতবর্ষ জানে।’’
Jun 21, 2026 10:54 PM IST
