Last Updated:
গত ফেব্রুয়ারিতে রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া গোলমালের ঘটনায় পাপ্পুর নাম সামনে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, ওই অশান্তির নেপথ্যে ছিলেন বিশ্বজিৎ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরাই ভাঙচুর ও গন্ডগোলে জড়িত ছিল। ঘটনার পর পুলিশ বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করলেও পাপ্পুকে ধরতে পারেনি। তিনি কোথায় আত্মগোপন করে ছিলেন, তা জানতে তল্লাশি চালাচ্ছিল তদন্তকারীরা।
কলকাতা: জমি জালিয়াতি কেলেঙ্কারির কথা সামনে আসার পর থেকেই কার্যত বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন কাঁকুলিয়া কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু৷ ভোট মিটতেই সোমবার সকালে হঠাৎ ইডি দফতরে তিনি হাজিরা দেওয়ায় চমকে গিয়েছিলেন সকলে৷ অবশেষে দিনভর ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরে কসবার ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল ইডি৷
জানা গিয়েছে, আর্থিক লেনদেনের বিপুল নথি ছিল সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে। সোনা পাপ্পু এবং ব্যবসায়ী জয় কামদারের মধ্যে, দুটি সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক কোটি টাকার লেনদেনের হয়েছে বলে জানতে পেরেছিলেন তদন্তকারীরা। সেই নথি নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হ. সোমবার। কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি তথা কলকাতার পুলিশের পদস্থ আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাস সম্প্রতি গ্রেফতার হওযার পরেই হঠাৎ এদিন ইডি দফতরে হাজির হন সোনা পাপ্পু৷ চলে টানা ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ৷
গত ফেব্রুয়ারি মাসে রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকায় একটি গোলমালের ঘটনা ঘটে৷ সেই ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে পাপ্পুর নাম। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, ওই অশান্তির নেপথ্যে ছিলেন বিশ্বজিৎ, ওরফে সোনা পাপ্পু এবং তাঁর অনুগামীরা? চলেছিল ভাঙচুর ও গোলমাল চালিয়েছিল তারা। ঘটনায় পুলিশ একাধিক জনকে গ্রেফতার করলেও পাপ্পুকে ধরতে পারেনি। সে কোথায়? জানতে তল্লাশি চলছিল। তবে এরই মধ্যে দু’বার ফেসবুক লাইভে এসে পাপ্পু দাবি করেছিল, কোনও অশান্তির ঘটনায় তাঁর কোনও ভূমিকা নেই।
পাপ্পুর খোঁজে তদন্ত যখন জোরদার হচ্ছে, ঠিক সেই সময় আচমকাই তাঁর বাড়িতে হানা দেয় ইডি। একই সঙ্গে তল্লাশি চালানো হয় ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতেও। অভিযানে নগদ টাকা ছাড়াও একটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং একাধিক সম্পত্তির নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ইডি সূত্রে দাবি, পাপ্পুর বাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার হয়, যা জয় কামদারের মাধ্যমে কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে সেই অস্ত্র গড়িয়াহাট থানায় জমা দেওয়া হয়।
এছাড়াও পাপ্পুর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগও সামনে আসে। ইডি সূত্রে জানা যায়, তাঁর নামে একাধিক এফআইআর রয়েছে। তোলাবাজি, হুমকি দেওয়া-সহ বিভিন্ন অভিযোগের পাশাপাশি অস্ত্র আইনেও মামলা দায়ের হয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইতিমধ্যে ওই মামলায় বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে গ্রেফতার করেছে ইডি। তদন্তের সূত্র ধরেই গত মাসে ফার্ন রোডে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। পরে পাপ্পুর মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে থানায় ডাকা হয় এবং শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়।
জয় বা শান্তনু গ্রেফতার হলেও পাপ্পু কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল৷ সোমবার আচমকাই সল্টলেকে ইডি দফতরে হাজিরা হয়ে যান পাপ্পু। সঙ্গে স্ত্রী। অতীতে তাঁকে একাধিক নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে প্রতি বারই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। সোমবার বিনা নোটিসেই সিজিও-তে হাজিরা দেন তিনি।
May 18, 2026 11:12 PM IST
