Last Updated:
Success Story: বাগডোগরার ১৬ বছরের নীলাঞ্জনার জাতীয় সাফল্য, গ্রাম বাংলার ভিডিওতেই জয় দেশের সেরা সম্মান। কী ছিল ওই ভিডিওতে?
শিলিগুড়ি, ঋত্বিক ভট্টাচার্য: প্রতিভা, সৃজনশীলতা এবং নিজের মাটির প্রতি ভালবাসা থাকলে যে ছোট একটি উদ্যোগও জাতীয় স্তরে সাফল্য এনে দিতে পারে, তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাগডোগরার নতুনপাড়ার বাসিন্দা নীলাঞ্জনা সূত্রধর। ভারত সরকারের গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনলাইন প্রতিযোগিতায় সেরার শিরোপা জিতে উত্তরবঙ্গের গর্ব বাড়িয়েছেন মাত্র ১৬ বছরের এই কিশোরী।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যুবক-যুবতীদের নিয়ে এই বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগীদের এক মিনিটের একটি ভিডিওর মাধ্যমে গ্রাম বাংলার জীবন, সংস্কৃতি, উন্নয়ন এবং বৈচিত্র্য তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েই নিজের সৃজনশীল চিন্তাভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ভিডিও তৈরি করেন নীলাঞ্জনা।
তার তৈরি ভিডিওতে উঠে আসে উত্তরবঙ্গের সবুজ চা বাগান, গ্রামীণ পরিবেশ, মানুষের জীবনযাত্রা, শিশুদের মিড-ডে মিল পরিষেবা এবং গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের নানা চিত্র। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে বিষয়বস্তুকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করায় বিচারকদের মন জয় করে নেয় সেই ভিডিও। অনলাইনের মাধ্যমে জমা দেওয়া ওই ভিডিওই শেষ পর্যন্ত তাকে এনে দেয় জাতীয় স্তরের সর্বোচ্চ সম্মান।
দিল্লি থেকে সম্মান গ্রহণ করে বাড়ি ফিরে নীলাঞ্জনা জানায়, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত সরকারের একটি পোস্ট দেখেই আমি প্রতিযোগিতার বিষয়টি জানতে পারি। তারপর নিজের গ্রামের সৌন্দর্য, চা বাগান, স্কুলের মিড-ডে মিল এবং গ্রামীণ জীবনের নানা দিক এক মিনিটের ভিডিওতে তুলে ধরার চেষ্টা করি। এত বড় সম্মান পাব, তা কখনও ভাবিনি। এই স্বীকৃতি আমাকে আগামী দিনে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেবে এবং ভবিষ্যতেও আমি এই ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাই।”
নীলাঞ্জনার মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “মেয়ের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। ছোটবেলা থেকেই ও পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে আগ্রহী। নিজের চেষ্টায় এবং পরিশ্রমে আজ জাতীয় স্তরে সম্মান অর্জন করেছে। একজন মা হিসেবে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। আমরা চাই ও ভবিষ্যতেও এভাবেই এগিয়ে যাক এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করুক।”
Siliguri,Darjeeling,West Bengal