Last Updated:
এর আগে ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানেরও প্রশংসা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘ডোমকল থেকে একজন ভদ্রলোক জিতেছেন৷’
বাম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানের পর এবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির প্রশংসা শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গলায়৷ বিধানসভায় উপস্থিতির নিরিখে ভাঙড়ের বিধায়ক যে বাকিদের থেকে এগিয়ে, এ দিন বক্তৃতা দেওয়ার সময় তা বাকি বিধায়কদের মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু৷ রাজ্যে পরিবর্তনের পরে নওশাদের নিজের বিধানসভা এলাকায় যেতেও সমস্যা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি উপলক্ষে এ দিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোন দলের কতজন বিধায়ক তা গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ বিধানসভায় বিরোধীদেরই বলার জন্য মোট বরাদ্দ সময়ের অর্ধেক বরাদ্দ করা হবে৷
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্ন বিরোধী দল নিয়ে বিরোধী সমষ্টি তৈরি হয়েছে। শাসক ও বিরোধী সব বিধায়ককে ধন্যবাদ জানাব। নতুন বিধায়ক অনেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এবারে লাইভ বিধানসভা। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা।বিধানসভাকে প্রাণবন্ত করতে চাই। সংখ্যা কোনও বিষয় নয়, হাউজ হল বিরোধীদের। অর্ধেক সময়ে আপনাদের দেওয়া হবে।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন বছরে অন্তত ৮০ থেকে ১০০ দিন বিধানসভার অধিবেশন হওয়া উচিত৷ একই সঙ্গে বিধানসভায় মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিয়েও এদিন কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ শুভেন্দু বলেন, ‘মন্ত্রীদের বিধানসভায় ঘর দেওয়া হয়েছে শুধু নেমপ্লেট লাগানোর জন্য নয়৷ মন্ত্রীরা বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করবেন, তাঁদের সমস্যা শুনবেন৷ অধিবেশন চালু থাকলে সাতজন মন্ত্রীকে উপস্থিত থাকতেই হবে। না হলে অধিবেশন স্থগিত করুন। বিধানসভায় বিধায়কদের উপস্থিতি দিয়ে দিন ওয়েবসাইটে। এক্ষেত্রে নওশাদ এগিয়ে। অনেককে বিধানসভায় দেখা যাচ্ছে না, ফলে তাঁদের এলাকা থেকে প্রশ্ন উঠছে। এখন তো সব লাইভ।’
এর পরই ভাঙড়ের বিধায়কের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কী নওশাদ ভাই, সরকার বদলের পর ভাঙড়ে যেতে অসুবিধা হচ্ছে না তো? জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় সম্মতি জানাতে দেখা যায় ভাঙড়ের বিধায়ককে৷’
বিধানসভায় বিধায়কদের উপস্থিতি নিয়ে এর আগেও অধ্যক্ষরা সরব হয়েছেন৷ তৃণমূল সরকারের আমলেও প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়দের বিধায়কদের উপস্থিতি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ পালাবদলের পরেও বিধানসভায় উপস্থিতির নিরিখে বাকিদের থেকে অনেকটা এগিয়ে ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি৷
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নওশাদ বলেন, ‘মানুষ আমাদের নির্বাচিত করে বিধানসভায় পাঠিয়েছেন৷ আমি মনে করি বিধানসভায় চালু থাকলে রোজ আসা উচিত৷’
Kolkata,West Bengal
