দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন শিবির এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলা সংঘাতের মধ্যেই এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে আইনি যুক্তি তুলে ধরছে।
কী পরিকল্পনা বিদ্রোহী সাংসদদের?
সূত্রের খবর, দিল্লিতে পৌঁছে বিদ্রোহী সাংসদরা প্রথমে তাঁদের সমর্থনে ইতিমধ্যেই কতজন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে, তার পর্যালোচনা করবেন। পাশাপাশি আরও সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।
এছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের তরফে যদি কোনও আইনি সমস্যা হয়, তার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়েও আলোচনা হবে। বিদ্রোহী শিবিরকে সমর্থন জানিয়ে যাঁরা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন, তাঁদের সবাইকে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের আগে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, তাঁদের গোষ্ঠীর শক্তি আরও বাড়তে পারে। তাঁর কথায়, “আমরা সবাই রাজা। আরও দু’জন নেতা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আগে ২০ জনের কথা বলেছিলাম, সেই সংখ্যা ২২-এ পৌঁছবে। যারা যোগ দিচ্ছেন, তারা নিয়মিত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।”
তৃণমূলের আইনি যুক্তি কী?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির বিদ্রোহীদের দাবির বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) কথা তুলে ধরেছে। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ জানিয়েছেন, সংবিধানের দশম তফসিলের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনও রাজনৈতিক দল অন্য দলে মিশে গেলে তবেই সাংসদ বা বিধায়করা অযোগ্যতার হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন।
তাঁর বক্তব্য, সংসদ বা বিধানসভার মধ্যে আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে মূল দলের প্রতীক ধরে রাখার কোনও সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেই। দলভাঙন নয়, বৈধ সংযুক্তিকরণ (Merger) হলেই কেবল আইনি সুরক্ষা মিলতে পারে।
একই সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ-এর গলাতেও। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দল শুধু সাংসদ বা বিধায়কদের নিয়ে গঠিত নয়। ফলে দুই-তৃতীয়াংশ জনপ্রতিনিধি দল ছাড়লেও, মূল রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক সংযুক্তিকরণ ছাড়া আইনি বৈধতা পাওয়া সম্ভব নয়।
কী বলছে দলত্যাগ বিরোধী আইন?
সংবিধানের দশম তফসিলের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দল অন্য দলের সঙ্গে একীভূত হলে এবং সেই সিদ্ধান্তকে আইনসভার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য সমর্থন করলে, সংশ্লিষ্ট সাংসদ বা বিধায়করা অযোগ্য ঘোষিত হবেন না।
এই বিধানটি প্রকৃত রাজনৈতিক সংযুক্তিকরণকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছিল। তবে ছোট ছোট গোষ্ঠীতে ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা রুখতেই আগের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদটি ২০০৩ সালের ৯১তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাতিল করা হয়। আগে এক-তৃতীয়াংশ সদস্য আলাদা হলে তা বৈধ বিভাজন হিসেবে গণ্য হতো। ফলে বর্তমানে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে বৈধ সংযুক্তিকরণই দলত্যাগ বিরোধী আইনের একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে স্বীকৃত।