Last Updated:
এ দিন অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে দেখা করার পর বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও জানিয়েছেন, তৃণমূলের প্রতি ক্ষোভ থেকেই তাঁরা এনসিপিআই-তে যোগ দিতে চান৷
রবিবার বিকেল পর্যন্ত ঠিক ছিল, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার মধ্যেই আলাদা ব্লক তৈরি করে এনডিএ-কে সমর্থন করবেন৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত রবিবার সন্ধ্যায় লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে তাঁরা নতুন দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া-তে মিশে যাওয়ার আবেদন করলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা৷
সূত্রের খবর, আইনি জট এডা়তেই তৃণমূলে থেকে আলাদা ব্লক তৈরির বদলে নতুন দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে রবিবার বিকেলের বৈঠকেই এই পরিকল্পনায় সিলমোহর পড়েছে বলে খবর৷
সংবিধানে বলা আছে, কোনও রাজনৈতিক দলের দুই তৃতীয়াংশ সাংসদ বা বিধায়কই দল থেকে বেরিয়ে গেলে তাঁরা দলত্যাগ বিরোধী আইনের কোপে পড়বেন না৷ দুই তৃতীয়াংশ সাংসদ বেরিয়ে গিয়ে অন্য দলে মিশতে পারেন৷ ২০০৩ সালে ৯১ তম সংবিধান সংশোধনীতে দুই তৃতীয়াংশ সাংসদ অন্য দলে মিশে যাওয়ার কথা বলা আছে৷ কিন্তু একই দলে থেকে সাংসদ বা বিধায়করা আলাদা ব্লক করতে পারেন, এমন কথা সংবিধানে বলা নেই৷ এই বিষয়টিকে উল্লেখ করেই বিদ্রোহীদের আলাদা ব্লক তৈরিতে আপত্তি জানিয়ে আজই অধ্যক্ষকে চিঠি দেয় তৃণমূল কংগ্রেস৷ এই জটিলতা এড়াতেই নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্তকেই বেছে নেওয়া হয়৷ কারণ সংসদের মধ্যে তৃণমূলেরই একদল সাংসদকে আলাদা করে জায়গা বরাদ্দ করা আইনি দিক থেকে অধ্যক্ষের পক্ষেও সম্ভব নয়৷
দল বিরোধী আইনের কোপ এড়িয়ে কোনও একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়াই ছিল তৃণমূলের বিদ্রোহীদের মূল উদ্দেশ্য৷ সম্ভবত সেই কারণেই এনসিপিআই-এর মতো অচেনা দলকেই বেছে নেওয়া হল৷ সর্বভারতীয় বা আঞ্চলিক দলের স্বীকৃতি না থাকলেও এনসিপিআই নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত৷ আইনে বলা আছে, দল বদল করলেও কমিশনে নথিভুক্ত এমন কোনও রাজনৈতিক দলেই যোগ দিতে হবে দুই তৃতীয়াংশ সাংসদ বা বিধায়ককে৷ ২০২২ সালের ১৩ অক্টোবর কমিশনের কাছে নথিবদ্ধ হওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিল এনসিপিআই৷ ২০২৩ সালে ত্রিপুরার বিধানসভার ভোটেও লড়েছিল এনসিপিআই৷ কমিশনে জমা দেওয়া ঠিকানা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার কথা বলা হয়েছে এই দলের পক্ষ থেকে৷
Kolkata,West Bengal
