Last Updated:
Tollywood News: পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় যনি পূর্বতন সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত ছিলেন, তিনিও এদিন উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। পরমব্রতকে পাশে নিয়েই এই বৈঠক করেন রুদ্রনীল ঘোষ।
কলকাতা: টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় গিল্ডের সমস্ত সদস্যদের সঙ্গে মিটিং করলেন বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ৷ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত সহ বহু পরিচালক ও প্রযোজকরা৷
টালিগঞ্জের শিল্পী ও কলাকুশলীদের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে। বুধবার সন্ধ্যেবেলায় টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে ফেডারেশনের সমস্ত গিল্ডের সদস্যদের সঙ্গে প্রথমবার কথা বললেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রুদ্রনীল ঘোষ। বিভিন্ন কলাকুশলীরা এতদিনের তাদের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরলেন রুদ্রনীল ঘোষের কাছে।
স্বরূপ বিশ্বাসের নাম তুলে অভিযোগ জানালেন। সমস্ত কিছু শোনার পর রুদ্রনীল ঘোষ জানান, ‘‘এটা কলাকুশলীদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক এরপরে আরও এরকম বৈঠক হবে এবং সমস্ত অভাব অভিযোগ শোনা হবে এবং তার সুরাহার পথ বের করা হবে।’’
রুদ্রনীলের কথায়, ‘‘কোনও ভীতির পরিবেশ তৈরি করা চলবে না। কোনও ফতোয়া জারি করার জায়গা এটা নয়। রং দল মত নির্বিশেষে সকলে কাজ পাবে। কার কী রাজনৈতিক পরিচিতি সেটা কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কোনওভাবেই শুটিং বন্ধ করা চলবে না। আলাপ আলোচনা করে সবকিছুর মীমাংসা করতে হবে। গ্রেফতার করে কাজ বন্ধ হবে না। ’’
বিধায়ক জানান, ‘‘টালিগঞ্জ স্টুডিও পাড়ার প্রত্যেকটা মানুষের প্রথম পরিচয় হবে তিনি একজন শিল্পী ও কলাকুশলী। এর বাইরে কোনওরকম পরিচিতি থাকবে না। বিরুদ্ধ মতকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা চলবেনা। প্রত্যেকেরই পক্ষে এবং বিপক্ষে মত থাকতে পারে। সুতরাং সবার মতামত শোনা হবে।’’
রুদ্রনীল ঘোষ সহ বাকি তিনজন সরকারের বার্তাবহ প্রতিনিধি এখানে। সকলের কথা শুনে অভাব অভিযোগের বিষয় সরকারের কাছে পৌঁছে দেবেন মাত্র। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় তাঁরা নেই। সরকার নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে এবং পরিচালন কমিটি বা সংগঠন তৈরি করে সবদিক বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
রুদ্রনীল জানান, এটা প্রথম মিটিং ছিল টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে পরবর্তীতে আরও অনেক মিটিং হবে এবং সেই অনুযায়ী ফেডারেশন নতুন রূপ নেবে।
এদিন রুদ্রনীলের পাশে ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়৷ যিনি আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ হলেও ফেডারেশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ক্ষমা চেয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজে প্রবেশ করতে হয়েছিল।
পরমব্রতর কথায়, ‘‘ভিডিও করে ক্ষমা চাওয়ার ক্ষেত্রে চাপ তো অবশ্যই ছিল। প্রত্যেকেরই সংসার আছে রুজি রুটি আছে। কিন্তু এটাও ঠিক প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে সেটাকে দূরে সরিয়ে রেখে টলিউডের একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত তিনি একজন শিল্পী। এর বাইরে কিছু নন। একটা স্বেচ্ছাচারিতা চলছিল, তার সবথেকে বড় ভুক্তভোগী আমি। আমি যে শুধুমাত্র আগের সরকারের সমর্থক ছিলাম তা তো নয়, এরকম অনেক মানুষ ছিলেন যারা আমার থেকেও অনেক বেশি আগের সরকারের কাছের মানুষ ছিলেন কিন্তু সকলকেই সাফার করতে হয়েছে। এই স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটাতে হবে।’’
