মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ত্বিশার শাশুড়ি তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংয়ের আগাম জামিন খারিজ করার পর তাঁকে গ্রেফতার করে CBI। এরপর ভোপালের একটি জেলা আদালত গিরিবালা সিং এবং তাঁর ছেলে তথা ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিংকে পাঁচ দিনের CBI হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
তদন্তে CBI-র মূল নজর
১. ২০ লক্ষ টাকার শেয়ার বিতর্ক ও পণের অভিযোগ
CBI সূত্রে জানা গিয়েছে, সমর্থ সিং এবং গিরিবালা সিং ত্বিশার উপর প্রায় ২০ লক্ষ টাকার শেয়ার নিজেদের নামে হস্তান্তর করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভোপাল পুলিশের কাছ থেকে তদন্তভার নেওয়ার পর CBI যে FIR পুনরায় নথিভুক্ত করেছে, তাতেও উল্লেখ রয়েছে যে ত্বিশার বিয়ের বিদায়ের সময় গিরিবালা সিং নাকি অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন।
তদন্তকারীদের হাতে আসা ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণে আরও দাবি করা হয়েছে, ত্বিশার গর্ভধারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল এবং শ্বশুরবাড়ির তরফে তাঁকে গর্ভপাত করানোর জন্য মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছিল, যাতে তাঁকে পরিবারে গ্রহণ করা হয়।
ত্বিশার মৃত্যুর আগের ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠনে “টানেল ভিউ” নামে একটি উন্নত তদন্ত পদ্ধতি ব্যবহার করছে CBI। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে CCTV ফুটেজ, Wi-Fi লগ, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন, স্মার্ট ডিভাইসের তথ্য এবং কল ডিটেল রেকর্ড (CDR) একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ১২ মে রাতের একটি বিস্তারিত ভার্চুয়াল টাইমলাইন তৈরি করছেন। ওই দিনই ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় নিজের শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল ত্বিশাকে।
এই তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ত্বিশার পরিবারের সঙ্গে হওয়া শেষ ফোনালাপ। ত্বিশার বাবার দাবি, ফোনে মেয়ে বলেছিলেন, “ফাঁস গয়ি হুঁ” অর্থাৎ “আমি ফেঁসে গেছি”। এরপরই নাকি পিছনে সমর্থের গলা শোনা যায় এবং আচমকা ফোন কেটে যায়।
প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয় পুলিশের তৈরি কিছু সরকারি নথিতে একাধিক অসঙ্গতি পেয়েছে CBI। বিশেষ করে নর উচ্চতা সংক্রান্ত তথ্য সরকারি নথিতে ভুলভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই অসঙ্গতিগুলি নিছক প্রশাসনিক ভুল, নাকি প্রভাবশালী পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার বয়ান বদলানো বা ফরেন্সিক প্রমাণে হস্তক্ষেপের চেষ্টা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
ফরেন্সিক রিপোর্টে কী উঠে এসেছে?
প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে “অ্যান্টিমর্টেম হ্যাংগিং”-এর কথা উল্লেখ করা হলেও, ত্বিশার শরীরের বিভিন্ন অংশে ভোঁতা বস্তুর আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে। পরবর্তী মেডিক্যাল রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেহ নামানোর সময় এই আঘাতগুলি লাগেনি। অর্থাৎ মৃত্যুর আগে শারীরিক নির্যাতনের সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকারীরা। এদিকে তদন্তের পরিধি এখন পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। ঘটনার পর কাটারা হিলসের বাড়িতে যাঁরা যাতায়াত করেছিলেন, সেই গৃহকর্মী, প্রতিবেশী ও অন্যান্য দর্শনার্থীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে CBI।