Last Updated:
বাঙালির মনে চিরকাল থেকে যাবেন উত্তম কুমার৷ মহিলাদের কাছে তিনি যেন ছিলেন শ্রেষ্ঠ পুরুষ৷ কিন্তু বাস্তবে তাঁর স্ত্রী গৌরী দেবীর জীবন ছিল অন্ধকারে ভরা৷ শেষ জীবন ছিল খুব কষ্টকর৷
কলকাতা: বাংলার অল টাইম ফিল্ম আইকন উত্তম কুমার৷ তিনি বাঙালির মহানায়ক৷ তাঁর ক্যারিশ্মা চিরকালীন৷ এখনও উত্তম সমান জনপ্রিয়৷ বাঙালি যে কোনও বয়সী মহিলার স্বপ্নের পুরুষ নির্দিধায় উত্তম কুমার৷ কিংবদন্তী অভিনেতা তো বটেই তাঁর রূপের জাদু মন ভোলাত ৮ থেকে ৮০ বছরের মহিলাদের৷ আর বাঙালি পুরুষদের তিনি অনুপ্ররণা জোগাতেন৷ তাঁকে অনুসরণ করতেন, তাঁদের জন্য স্টাইলের শেষ কথা ছিলেন উত্তম কুমার৷ কিন্তু সেই উত্তম কুমারের ব্যক্তিগত জীবন সুখকর ছিল না৷ সাধারণত এত বড় মাপের শিল্পীর জীবন কাঁটায় ভরা থাকে৷ কারণ কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে একজন শিল্পীকে নিঃসঙ্গ করে দেয়৷ উত্তম কুমারের ক্ষেত্রেও তা কিছুটা সত্যি৷ বাংলা সিনেমায় রাজত্ব করা উত্তম কুমার খুব সুখী ছিলেন না তাঁর স্ত্রী গৌরী দেবীর সঙ্গে৷
১৯৪৮ সালের ১ জুন তাঁদের বিয়ে হয়, তারপর গৌতম নামের তাঁদের এক পুত্রসন্তান জন্মায়। বাংলা সিনেমার মহানায়ক উত্তম কুমার এবং তাঁর স্ত্রী গৌরী দেবী-র দাম্পত্য জীবন ছিল গভীর ভালবাসা, সংগ্রাম ও নানা টানাপোড়েনে ভরা। উত্তমের ক্যারিয়ারের শুরুর কঠিন দিনগুলোতে গৌরী দেবী তাঁর পাশে ছিলেন। এরপর উত্তম কুমার ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাঁর সিনেমার জীবনে৷ তিনি তখন খ্যাতির মধ্য গগনে৷ ধীরে ধীরে সম্পর্কের বাঁধন আলগা হতে থাকে দু’জনের৷ গৌরী দেবী উত্তমের ঘরণী হয়ে থেকে যান এবং উত্তমের সংসার সামলাতে থাকেন৷ কিন্তু সেই নিয়ে কোনও আপত্তি ছিল না তাঁর৷ এমনকী যখন সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান উত্তম কুমার, তখন খুবই কষ্ট পেয়েছিলেন গৌরী দেবী তবে উত্তমের ভাল চেয়ে তাঁকে আটকাননি৷ মহানায়কের জীবনে সুপ্রিয়া দেবীর আসার পরও গৌরী দেবীর সঙ্গে উত্তমের আইনগত বিচ্ছেদ হয়নি।
তবে উত্তম কুমারের মৃত্যুতে আর নিজেকে সামলাতে পারেননি গৌরী দেবী৷ উত্তম কুমারের মৃত্যু বার্ষিকীতে এক সাক্ষাৎকারে তাঁর নাতনি নবমিতা বলেন যে, তাঁর ঠাকুমা স্বামীকে হারিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন৷ উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর তিনি শুধু কাঁদতেন৷ বৈধব্য মানতে পারেননি তিনি৷ তাঁদের বিলাসবহুল বাড়ির বারান্দা থেকে একে একে উত্তমবাবুর উপহার দেওয়া শাড়ি, গয়না ছুড়ে ফেলে দিতে থাকেন গৌরী দেবী৷ লাল রং, যা সধবাদের রং বলে মনে করা হয়, তার থেকে নিজেকে দূরে রাখতেন গৌরী দেবী৷ এমনকী সোনার কাজ করা বেনারসী শাড়িও ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন, বলেন নবমিতা৷ এরই সঙ্গে সোনার গয়না ফেলে দিতেন৷
ঘুমের ওষুধ খেতেন৷ এবং যখন সেই ঘুমের ওষুধ আর কাজ করত না, তখন নিজেকে মদের নেশায় ডুবিয়ে দিয়েছিলেন উত্তম পত্নী৷ কারণ তিনি চাইতেন নিজেকে শেষ করে ফেলতে৷ ১৯৮০ সালে উত্তম কুমারের আকস্মিক প্রয়াণের পর গৌরী দেবী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং স্বামীর মৃত্যুর এক বছর পর, ১৯৮১ সালের ২১ এপ্রিল তাঁরও মৃত্যু হয়।
Kolkata,West Bengal
