Last Updated:
দীর্ঘ ১৭ বছর একসঙ্গে এক ছাদের তলায় কাটিয়েছেন উত্তম কুমার-সুপ্রিয়া দেবী৷ যদিও আইনি মতে তাঁদের বিয়ে হয়নি বলে জানা গিয়েছে৷
কলকাতা: বাংলার সর্বসময়ের সুপারহিট নায়ক উত্তম কুমার৷ দশকের পর দশক পেরিয়ে তিনি বাঙালি দর্শকদের মনে থেকে যাবেন৷ উত্তম কুমার তাঁর ছবির মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন চিরকাল৷ তাঁর মৃত্যুর ৪৫ বছর পরও উত্তম কুমারকে নিয়ে বাঙালির আগ্রহ কমেনি৷ তাঁর সিনেমা হোক বা ব্যক্তিগত জীবন সব নিয়ে চর্চা চলে জোরদার৷ উত্তম কুমার ১৯৪৮ সালে গৌরী দেবীকে বিয়ে করেন৷ তাঁদের এক সন্তান গৌতম চট্টোপাধ্যায়৷ গৌতমের দুই সন্তান গৌরব ও নবমিতা৷ গৌরব অভিনেতা, তাঁকে ছবি এবং সিরিয়ালে নিয়মিত দেখা যায়৷
এরপর উত্তম কুমার ভালবেসে সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন৷ সালটা ১৯৬৩৷ এবং আমৃত্যু সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গেই ছিলেন তিনি৷ যদিও তাঁর সঙ্গে গৌরীদেবীর কখনও আইনগত বিচ্ছেদ হয়নি৷ ফলে খাতায় কলমে শেষ দিন পর্যন্ত গৌরী দেবীর স্বামী ছিলেন উত্তম কুমার৷ ফলে আইনি মতে উত্তম কুমারের যাবতীয় সম্পত্তির অধিকারী ছিলেন গৌরী দেবী এবং তাঁদের ছেলে গৌতম চট্টোপাধ্যায়৷
উত্তম কুমারের মৃত্যু বার্ষিকীতে একটি সাক্ষাৎকার দেন তাঁর নাতনি নবমিতা৷ এবং তিনি সেখানে একটি বিস্ফোরক দাবি করেছেন৷ তিনি বলেন যে দাদুর মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পত্তির ভাগ চাইতে আসেন সুপ্রিয়া দেবী৷ তিনি তাঁর অধিকার থেকে এই পদক্ষেপ নেন৷ কারণ দীর্ঘ ১৭ বছর উত্তম-সুপ্রিয়া একসঙ্গে ঘর করেছিলেন৷ ফলে সেখান থেকে তিনি মনে করেছিলেন যে উত্তমবাবুর সম্পত্তিতে তাঁর অধিকার রয়েছে৷ এই নিয়ে দীর্ঘদিন আইনি লড়াই চলে৷ আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন উত্তম পুত্র গৌতম ও সুপ্রিয়া দেবী৷ এর ফলে বারবার আদালতের শুনানিতে যেতে হত দুই পক্ষকে৷ পরে যদিও এই লড়াইয়ে জেতেন গৌমতবাবুই৷ হেরে যান সুপ্রিয়া দেবী৷
নবমিতার কথায়, আইনি লড়াইয়ের শেষের দিকে সুপ্রিয়া দেবী বুঝতে পেরে যান যে এই লড়াইয়ে তাঁর হার হবে, তখন তিনি উত্তম পুত্রের কাছে এসে ক্ষমা চেয়ে নেন৷ এবং সেই থেকে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক ভাল হতে থাকে৷ এরপর প্রায় তাঁদের আমন্ত্রণ করে খাওয়াতেন সুপ্রিয়া দেবী৷ চট্টোপাধ্যায় বাড়িতেও কোনও অনুষ্ঠানে আসতেন সুপ্রিয়া দেবী এবং তাঁর মেয়ে৷
Kolkata,West Bengal
