Last Updated:
Nitin Gadkari on E 20 Fuel Contro: বার বার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দাবিকে ঘিরে এবার পাল্টা আক্রমণের পথে হেঁটেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করি। তাঁর মতে, E 20 পেট্রোলের বিষয়ে অনেক চর্চা হচ্ছে। যদিও এই জ্বালানির জন্য গাড়ির কোনও ক্ষতি হয়েছে এমনটা বলা ঠিক নয়। কারণ এই বিষয়ে কোনও অকাট্য প্রমাণ সামনে আসেনি। প্রমাণ ছাড়া সাধারণ মানুষকে এভাবে বিভ্রান্ত করা একেবারেই উচিত নয়।
নয়াদিল্লি: ই-২০ জ্বালানি বিতর্ককে কেন্দ্র করে অনেকেই অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করি এর মাধ্যমে নিজের পরিবারের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করেছেন এবং তাঁর ছেলেদের ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ করে দিয়েছেন। এই অভিযোগগুলির জবাবে এবার স্বয়ং গড়করি মুখ খুলেছেন। কেন্দ্রের ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচি এবং তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest)-এর অভিযোগ প্রসঙ্গে গড়করি বলেন, দেশের মোট ইথানল উৎপাদনে তাঁর ব্যক্তিগত অংশীদারিত্ব এতটাই কম যে তা সরকারি নীতিতে কোনও প্রভাব ফেলতে পারে না।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই জ্বালানিকে ঘিরে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, এই পেট্রোল Petrol ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে, এমনকি ইঞ্জিনেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে ওপেন চ্যালেঞ্জ করলেন মন্ত্রী।
তিনি ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি আমার কারখানার ব্যবসা দেখি না; আমার ছেলেরাই তা দেখাশোনা করে… পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক টেন্ডারের মাধ্যমে ইথানলের দাম নির্ধারণ করে, মন্ত্রিসভা তা চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় এবং মন্ত্রকই কোটা নির্ধারণ করে… আমরা খুব বেশি ইথানল সরবরাহ করি না। আমাদের অংশীদারিত্ব মাত্র ০.০৭ শতাংশ। এত কম অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক লাভের প্রশ্নই ওঠে না।”
মে ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা (যার সদস্য নিতিন গড়করিও) ‘ন্যাশনাল পলিসি অন বায়োফুয়েলস-২০১৮’-কে অনুমোদন দেয়। এই নীতিতে প্রাথমিকভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের একটি সম্ভাব্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর তেল বিপণন সংস্থাগুলি ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ (EoI) জারি করে এবং বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচিত ১৩১টি নির্দিষ্ট ইথানল প্ল্যান্টের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ‘অফ-টেক অ্যাগ্রিমেন্ট’ (LTOA) স্বাক্ষর করে।
মানস অ্যাগ্রো এবং সিয়ান অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ পরিচালনা করেন গড়করির ছেলে সারং এবং নিখিল গড়করি। এই সংস্থাগুলি ইথানল ও বায়ো-ডিজেল থেকে শুরু করে তেল ও স্বাস্থ্যপণ্য পর্যন্ত নানা ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ‘মানস অ্যাগ্রো’ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এতে সারং গড়করি পূর্ণকালীন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংস্থাটি চিনি, বিদ্যুৎ, ইথানল, বায়ো-ডিজেল, বায়ো-সার এবং বায়োমাস প্রক্রিয়াকরণের কাজ করে। ‘টোফলার’ (Tofler)-এর সংগৃহীত রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজ (RoC)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এই সংস্থার পরিচালন আয় ৫০০ কোটি টাকারও বেশি ছিল।
অন্যদিকে, নিখিল গড়করি সিয়ান অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর। এটি একটি তালিকাভুক্ত নয় এমন পাবলিক কোম্পানি, যা ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং যার বার্ষিক আয় ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে। সংস্থাটি তেল, মশলা এবং স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পণ্য উৎপাদন করে।
Kolkata,West Bengal
