Tata’s iPhone Plant : ভারতে আইফোন তৈরির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, তামিলনাড়ুর হোসুরে অবস্থিত টাটা ইলেকট্রনিক্সের (Tata Electronics) কারখানাটি এবার বড়সড় আইনি ও পরিবেশগত সংকটের মুখে। কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য জল পার্শ্ববর্তী কৃষিজমিতে ফেলে ভূগর্ভস্থ জল দূষিত করার অভিযোগে প্ল্যান্টটি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (TNPCB)।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ মে দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড টাটা ইলেকট্রনিক্সকে একটি কড়া ‘শো-কজ’ নোটিশ পাঠিয়েছে। তিন পাতার ওই নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে, পরিবেশগত নিয়ম লঙ্ঘনের অপরাধে কেন কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে না এবং কারখানাটি সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে না?
মূল সমস্যা কী ?
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সালের শেষভাগে। কারখানার সংলগ্ন এলাকার কৃষকরা অভিযোগ করেন যে, ফ্যাক্টরি থেকে বের হওয়া ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত জল বা এফ্লুয়েন্ট (Effluent) তাদের চাষের জমি নষ্ট করছে এবং এলাকার কুয়ো ও ভূগর্ভস্থ জলকে বিষাক্ত করে তুলছে।
কৃষকদের এই ক্ষোভের জেরে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের আধিকারিকরা মোট পাঁচবার ওই কারখানায় আকস্মিক পরিদর্শন (Inspection) চালান। তদন্তে দেখা যায়, টাটা কর্তৃপক্ষ কারখানার ভেতরে থাকা একটি বৃষ্টির জল ধরে রাখার পুকুরে (Rainwater Harvesting Pond) বর্জ্য জল ফেলছিল। সেই পুকুরটি উপচে পড়ে আশেপাশের চাষের জমিতে রাসায়নিকযুক্ত জল ছড়িয়ে পড়ে এবং ভূগর্ভস্থ জলে গিয়ে মেশে।
নির্দেশ উপেক্ষা করার অভিযোগ
সরকারি নোটিশ অনুযায়ী, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বরই টাটাকে এই বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, এরপরও কয়েক মাস ধরে সংস্থাটি কোনো সদর্থক বা সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়নি। নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানোর এই মনোভাবই ক্ষুব্ধ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে।
টাটা ইলেকট্রনিক্সের সাফাই
অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে টাটা ইলেকট্রনিক্স। রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, একটি স্বাধীন ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগার দিয়ে তারা জলের নমুনা পরীক্ষা করিয়েছে। সেই রিপোর্টে দেখা গেছে, কোম্পানি সমস্ত রকম সরকারি পরিবেশগত নিয়ম মেনেই কাজ করছে। টাটা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, তারা স্থানীয় পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ইতিমধ্যেই সরকারের নোটিশের জবাব দিয়েছে। তবে সেই জবাবে ঠিক কী লেখা রয়েছে, তা খোলসা করেনি তারা।
অ্যাপলের ভারতীয় স্বপ্নে ধাক্কা?
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন বিশ্বজুড়ে আইফোন উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে অ্যাপল (Apple)। ফক্সকনের (Foxconn) পর দক্ষিণ এশিয়ায় অ্যাপলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হলো টাটা ইলেকট্রনিক্স। হোসুরের এই কারখানাতেই আইফোনের ব্যাক প্যানেলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরি হয়।
রিসার্চ ফার্ম ‘কাউন্টারপয়েন্ট’-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারের মোট ২৬ শতাংশ আইফোন ভারতেই তৈরি হওয়ার কথা, যা মাত্র চার বছর আগে ছিল মাত্র ৬ শতাংশ। তবে হোসুরের এই প্ল্যান্টে সমস্যা এই প্রথম নয়; এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এখানে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে বেশ কিছুদিন উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এবার পরিবেশ দূষণের এই বড় মামলা ভারতের আইফোন তৈরির অগ্রযাত্রায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
Budget 2026: অপারেশন সিঁদুরের পর বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি