Last Updated:
তৃণমূল সরকারের আমলে শুরু হওয়া ‘বাংলার বাড়ি ’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ পাওয়া উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। তবে তার আগে বিজেপি সরকার পূর্বতন সরকারের প্রকল্পের উপভোক্তাদের পুনরায় সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে। তাতেই খোঁজ মিলেছে নানা অনিয়মের ৷
সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: এবার তৃণমূল জমানায় ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে বড় অনিয়মের অভিযোগ। যাচাই পর্ব শুরু হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই সব থেকে বেশি অযোগ্য উপভোক্তাদের সন্ধান। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই সবচেয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ। এই জেলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০,৫০০ জন অযোগ্য উপভোক্তা চিহ্নিত হয়েছেন, যা রাজ্যের এখনও পর্যন্ত মোট অভিযোগের প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বেশিরভাগই অভিযোগ ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার ব্লক থেকেই বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্যজুড়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার জন অযোগ্য উপভোক্তা চিহ্নিত হয়েছেন বলে নবান্ন সূত্রে খবর। অভিযোগ, বাড়ি থাকার পরেও বহু ব্যক্তি ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের সরকারি অনুদান পেয়েছেন। এমনকি, যাচাই পর্বে দেখা গিয়েছে পাকা বাড়ি রয়েছে তারপরও তারা বাংলার বাড়ি পেয়েছেন। অযোগ্য উপভোক্তাদের থেকে ইতিমধ্যেই ১১টি জেলায় টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাশাপাশি তালিকায় রয়েছে উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনার মত জেলাগুলিও। এখনও পর্যন্ত ৫০ জনের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর, যার মধ্যে বেশিরভাগ জনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার। রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশে উপভোক্তাদের তালিকা পুনরায় যাচাই এবং অনিয়মের উৎস খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।
‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এখন প্রশাসনের বিশেষ নজরে রয়েছে ৷ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। মূলত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রাজ্যের কোষাগার থেকে টাকা খরচ করে ‘বাংলার বাড়ি’ গ্রামীণ প্রকল্পের টাকা দিয়েছিল। যার মধ্যে ১২ লক্ষ উপভোক্তা দুই কিস্তিতে বাংলার বাড়ির ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। বাকি ১৮ লক্ষ উপভোক্তা ৬০ হাজার টাকা করে প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছিলেন। রাজ্য সরকার পালাবদলের পর বাংলার বাড়ির উপভোক্তাদের প্রাপকদের তালিকা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানেই যাচাইয়ের পর্বে প্রাথমিক এই পরিসংখ্যান এখনও পর্যন্ত উঠে এসেছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
Kolkata,West Bengal
