মেছুয়া বাজারের চা চক্রের আগে মঙ্গলবার প্রাতঃভ্রমণ চলাকালীন প্রতিদিনের মতোই একাধিক বিষয়ে মুখ খোলেন দিলীপ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একের পর এক ইডি-সিআইডির তলব থেকে কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি, প্রাসাদসম বাড়ি, একাধিক প্রসঙ্গে চাঁচাছোলা মন্তব্য শোনা গেল দিলীপ ঘোষের মুখে।
১) ইডি-সিআইডি লাগাতার জেরা। এবার কি গ্রেফতার হবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?
উত্তর: “সবই তো শুরু হয়েছে। হাঁটতে আরম্ভ করেছে, কেউ আগে পৌঁছবে কেউ পরে পৌঁছবে। রাস্তা তো খোলাই আছে। এতদিন লোকে ভয়ে কমপ্লেন করত না। এখন অভিযোগ আসছে। ভবিষ্যতে আরও কমপ্লেন আসবে। এরকম যেরকম যেরকম তথ্য সামনে আসবে পুলিশ সেই অনুযায়ী কাজ করবে।”
২) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে কুণাল ঘোষ ডিম খেয়ে গেলেন! কী বলবেন?
উত্তর: “দেখুন লোকে এত সুন্দর ডিম প্র্যাকটিস করছে যে কপালে ছুঁড়লে কপালে মারছে। টাকে ছুঁড়লে টাকেই লাগছে। বুকে মারলে বুকেই লাগছে। প্র্যাকটিস করতেও তো ডিম খরচ হচ্ছে! লোকজন ঠিক জায়গায় রেডি হয়ে থাকছে। আমার মনে হয় কোথাও লোকজনকে প্র্যাকটিস করানো হচ্ছে। না হলে টিপ এত সুন্দর হয় কী করে?”
দিলীপের কটাক্ষ যোগ, “কুণাল ঘোষ ডিম খাবেন তো জানতেন। না হলে কী করে বলেন আমি তো যাবই। কিন্তু কাঁচা ডিম খাবেন হয়তো ভাবেননি। আরেকজন সংসদ তো বিদেশ থেকে হুমকি দিচ্ছেন ডিম মারলে কেস করব এখন এসে দেখুন তার ভাগ্যে কাঁচা নাকি ভাজা ডিম জোটে?”
৩) ওয়ার্ড অফিসগুলিতে বিনোদনের আসর, অভিযোগ উঠছে একাধিক জায়গায়, কী বলবেন?
উত্তর : পার্টি অফিস থেকে আরম্ভ করে বিশ্ববিদ্যালয় সব মধুচক্র হয়ে গেছে। পার্টি অফিস করা হচ্ছে পয়সা তোলা আর ফুর্তি করার জন্য। এটা আমরা শাহজাহানের ওখানে দেখেছিলাম। সরকারি জেটিঘাটে অফিস নিয়ে তোলা তোলা এবং এসব কীর্তি চলত। বিশ্ববিদ্যালয় সেখানেও সুরিখানার থেকেও খারাপ কাজ হত।”
দিলীপের নিশানা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী জানতেন না। একটার পর একটা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস করাতেন আর সেখানে কী হচ্ছে জানতেন না। তাঁর ফ্যামিলির এমপিরা কোথায়? কিছু দুষ্কৃতি এমএলএ এমপিদের পাশে পাশে ঘুরত তাঁরাই নেতা তাঁরাই ছেলেমেয়েদের ভর্তি করত তাঁরাই ফুর্তি করত মেয়েদের ভোগ করত। তারপর ওঁরা বড় বড় কথা বলতেন এখনও বলছেন? বাঁচার চেষ্টা করছেন, ফাঁসি দেওয়া উচিত।”
৪) প্রসঙ্গ অনন্যার হাতিবাড়ি :
উত্তর: “কাউন্সিলর, দেখেছেন দোতলা তিনতলা বাড়ি, সুইমিংপুল। গাড়ি বাড়ি কোথা থেকে টাকা এসেছে? ১০ হাজার টাকায় হয়? ২০ হাজার ৫০ হাজার ১ লাখ টাকা বেতন পায় এমএলএ তাতে হয়? ওখানকার স্থানীয় লোকদের জিজ্ঞাসা করুন, এক একটা লোককে চোষা হয়েছিল। দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাড়িঘর লুট করা হয়েছে, বাড়ির বউকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা তো জানি! আপনারাও জানতেন, এতদিন বলেননি। এখন পাবলিক মুখ খুলেছে। এরকম অনেক নেতাই বেরোবে। সমাজ বিরোধী যারা নেতা হয়ে গেছে তাদের সব কটাকে জেলে পোরা হবে।”
৫) রক্ষাকবচ আছে তবুও হাজিরা এড়াচ্ছেন অরূপ বিশ্বাস:
উত্তর: আদালত যেখানে হস্তক্ষেপ করেছে তখন সেই নির্দেশ মেনেই চলতে হবে। হাজিরা অনেকেই এড়িয়েছিলেন, কে এড়াননি। হসপিটালে ভর্তি হয়েছেন কেষ্ট মণ্ডল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে দু-তিন বছর জেলের ভাত খেয়েছেন। এদের সারা জীবন জেলের ভাত খেতে হবে।
৬) কলকাতা পুরসভার অনুষ্ঠানে বিরোধীরা সসম্মানে, কী বলবেন?
উত্তর: ঠেলায় পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে। দেখুন কী কী হয়! আমাদের মুখ্যমন্ত্রী জেলার সমস্ত মিটিংয়ে সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের ডাকছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সবকা সাথ সবকা বিকাশ এটা আমরা করব। এটা স্বীকারও করেছেন বিরোধীরা। আরে ওদের পার্টির মিটিং-এই ওদের ডাকা হত না। ওটা কোন সরকার চলছিল নাকি পার্টি চলছিল। আজ দেখুক লোকে সংগঠন কেমন হয় আর সরকার কেমন কাজ করে। আপনারা সহযোগিতা করুন আমরা বাংলাকে সোনার বাংলা বানাতে চাই।
৭) “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা নেই। শুভেন্দু অধিকারীর উপর ভরসা আছে তাই সকলে এসেছেন। তাই লোকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছে, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যখন ডাকছেন তখন সমস্ত দলের সমস্ত পার্টির নেতারা আসছেন। এমএলএ, এমপি, কাউন্সিলর সবাই আসছেন। এই পরম্পরাতেই বাংলার উন্নয়ন হবে।”
৮) জাহাঙ্গীরের সমর্থনে মহিলারা?
উত্তর: “যে রাস্তায় নামবে, আন্দোলন করবে সেও তার সঙ্গে ভিতরে যাবে এটা যেন মনে রাখে। যে চোরদের সঙ্গে থাকবে, ডাকাতদের সঙ্গে থাকবে, তাদের চোর ডাকাত হিসেবে ট্রিটমেন্ট করা হবে। সেজন্য সহমর্মিতা দেখাবেন না। সব বাংলাদেশে পাঠাবো খুঁজে খুঁজে।”