নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক এবং প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগের জেরে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG 2026) পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। আগামী ২১ জুন এই পরীক্ষার রি-টেস্ট বা পুনর্পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং পুনরায় যে কোনও ধরণের জালিয়াতি রুখতে এবার ভারতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি আসরে নামছে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)।
নিট পুনর্পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র ও সুরক্ষিত করতে শিক্ষা মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ স্তরের বৈঠকের পর একটি বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে। এই বিষয়ে নিম্নে আলোচনা করা হল।
আকাশপথে প্রশ্নপত্র পরিবহন: প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সমস্ত রকম ঝুঁকি এড়াতে এবার আর সাধারণ ডাক বিভাগ বা সড়কপথের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে না। বায়ুসেনার বিশেষ পরিবহন বিমান এবং শক্তিশালী ‘মি-১৭’ (Mi-17) হেলিকপ্টারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রগুলি আকাশপথে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো হবে।
১৮টি স্ট্র্যাটেজিক লোকেশন চিহ্নিতকরণ: দেশের মোট ১৮টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। বায়ুসেনার তত্ত্বাবধানে মূল বিতরণ কেন্দ্র থেকে এই ১৮টি লোকেশনে প্রশ্নপত্রের গোপন প্যাকেটগুলি উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে প্রশ্নপত্র পৌঁছাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে।
প্রশ্নকর্তাদের নজরবন্দি: শুধু পরিবহন নয়, প্রশ্ন তৈরির স্তরেও নজিরবিহীন কড়াকড়ি করা হয়েছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিকারক, মডারেটর এবং অনুবাদকদের সম্পূর্ণ গোপন একটি সুরক্ষিত আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা একপ্রকার নজরবন্দি অবস্থায় থাকবেন। তাঁদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেটের মতো বাহ্যিক যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
বিগত দিনে নিট পরীক্ষা নিয়ে হওয়া কেলেঙ্কারি দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা সম্পূর্ণ নাড়িয়ে দিয়েছিল। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) তদন্ত চালাচ্ছে। এমতাবস্থায় আগামী ২১শে জুনের পুনর্পরীক্ষাকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি আস্থা ফেরানোর লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের একটি শিক্ষাগত প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সুরক্ষিত রাখতে সামরিক বাহিনীর সাহায্য নেওয়া যেমন নজিরবিহীন, তেমনই এটি প্রমাণ করে যে সরকার এবার পরীক্ষার শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কতটা মরিয়া ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।