কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর প্রথমবার CEO দফতরে এসে সাংবাদিক বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করতে কমিশনকে ধন্যবাদ জানালেন তিনি। একই সঙ্গে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের জন্য় বার্তাও দিলেন। রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য বিজেপি। বারবার রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সতর্ক করে দিচ্ছেন যে কোনও হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এখন অপ্রাসঙ্গিক। আইন নিজের হাতে কেউ তুলে নেবেন না। দিকে দিকে তৃণমূলই অশান্তি ছড়াচ্ছে। এখনও বাংলায় মহাজঙ্গলরাজ রয়েছে। ২০২১, ২০২৩-এর তুলনায় বড় কোনও অশান্তি হয়নি। ভোটাররা অনেকদিন পরে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ভবানীপুরে ১০-১৫ বছর অনেকে ভোট দিতে পারেনি।’
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ‘আমি বলেছি, পাপীদের অফিসে হাত দেওয়ার দরকার নেই। ধর্ম সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে গুন্ডা দমন করা হবে। শান্তি ও বিকাশের লক্ষ্যে কাজ করবে বিজেপি। ৫০-৬০টি অভিযোগ এসেছে, ১৬১টি FIR করছে সিবিআই। তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপিকে তুলনা করবেন না। এবার বাংলা থেকে মহাজঙ্গলরাজ পরিষ্কার করব। সন্দেশখালির অত্যাচারের ঘটনা গোটা দেশ দেখেছে। সন্দেশখালির মানুষ শেখ শাহজাহানের ভয়ে গ্রাম ছেড়েছিল। আজ তৃণমূল নেই, সন্দেশখালির মানুষ আবার ফিরে আসছেন।’
উল্লেখ্য, একুশের হোম ম্যাচে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন। ছাব্বিশে অ্যাওয়ে ম্যাচে ভবানীপুরে গিয়ে ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন! একইসঙ্গে জয়ী হয়েছেন নন্দীগ্রাম আসনেও। বুধবার নন্দীগ্রামে যাওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, ‘যাঁরা আমাকে দু’বার সাংসদ করেছেন ২০০৯, ২০১৪, যাঁরা আমাকে তিনবার বিধায়ক করেছেন ২০১৬, ২০২১, ২০২৬, সেই পবিত্র ভূমি নন্দীগ্রামে আপামর জনগণকে আমি আমার অন্তর থেকে শ্রদ্ধা, প্রণাম, শুভেচ্ছা, অভিনন্দন, কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ, কাঁথির শান্তিকুঞ্জ থেকে বেরোন শুভেন্দু অধিকারী। সোজা চলে আসেন নন্দীগ্রাম বাজার লাগোয়া বিধায়কের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। সেখানে তাঁকে সম্বর্ধনা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন কর্মী সমর্থকরা। সেখানে পৌঁছে প্রথমে পাশের একটি হমুমান মন্দিরে পুজো দেন। তারপর এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজার রাখার বার্তা দেন। শুভেন্দু বলেন, ‘আমার আবেদন, শান্তি বজার রাখতে হবে। কুকুর মানুষের পায়ে কামড়ায়, মানুষ কখনও কুকুরের পায়ে কামড়ায় না। আমি বলব হাতে আইন কেউ নেবেন না। আগামী বিজেপির সরকার, ভারতীয় ন্য়ায় সংহিতা অনুযায়ী BNS অনুযায়ী প্রত্য়েকটা মামলাকে রিওপেন করবে এবং আমরা ব্য়বস্থা নেব।’