কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : পালাবদলের পরেই অযোগ্যদের বেতন আদায়ে সক্রিয় রাজ্য সরকার। SSC-র অযোগ্য চাকরিপ্রাপকদের বেতন আদায়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও অযোগ্যদের বেতন আদায় করা হয়নি বলে সূত্রের খবর। বেতন আদায়ে এবার জেলাশাসকদের চিঠি পাঠাল শিক্ষা দফতর। অযোগ্যদের টাকা আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল অযোগ্যদের বেতন আদায়ে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়।
বিপুল জনাদেশ নিয়ে বিজেপি সরকার আসার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল শিক্ষা দফতর থেকে একটা চিঠি সমস্ত জেলাশাসককে পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে নির্দেশ দিয়েছে, যারা দাগী, যারা অযোগ্য, যারা অর্থ দিয়ে চাকরি পেয়েছেন, সেই সমস্ত শিক্ষকের চাকরি তো বাতিল হয়েছেই, এমনকী তাঁদের বেতন ফেরত দিতে হবে। সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে। সেই বেতন আদায় করতে হবে।
বিগত সরকার সেই পথে হাঁটেনি। বরঞ্চ তৎকালীন শাসক দল এবং সরকারের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠেছে, তারা অযোগ্যদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেছে। রাজনৈতিক ময়দানে অযোগ্যদের পাশে থেকেছে।
এই প্রেক্ষাপটে পালাবদলের পরেই বর্তমান রাজ্য সরকারের তরফে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। যারা অযোগ্য, যারা দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছেন, যারা সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন এবং যাদের জন্য প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, সেই অযোগ্যদের টাকা ফেরতের কথা বললেও, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও তা হয়নি। তা এখনই শুরু করতে হবে। সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, স্কুল শিক্ষা দফতর থেকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে তাতে জেলাশাসকদের বলা হয়েছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করুন, কীভাবে এই টাকা আদায় করা যায়।
প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল এসএসসি-র ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ে চাকরি গিয়েছিল ২৫,৭৩৫ জনের। সুপ্রিম নির্দেশে সাফ জানান হয়েছিল, যাঁরা ‘অযোগ্য হিসাবে চিহ্নিত’, তাঁদেরকে বেতনও ফেরত দিতে হবে এবং তাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর যোগ দিতে পারবেন না। তবে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে এবং এপ্রিল মাসের বেতন দেওয়ার আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়েছিল ‘অযোগ্য’ চাকরিহারাদের তরফে। সেই জোড়া মামলায়ও সুপ্রিম কোর্টে চিহ্নিত ‘অযোগ্য’ চাকরিহারারা জোর ধাক্কা পেয়েছিলেন।