কলকাতা : অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের পর এবার শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ৫৫ বছর পর জেলা থেকে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। শুক্রবার বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারীকে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা ঘোষণা করেন অমিত শাহ। ৫৫ বছর পর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, আরও এক মেদিনীপুরের ঘরের ছেলে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা থেকে পরপর মুখ্য়মন্ত্রী হওয়ার পর, প্রায় ৫৫ বছর পর জেলা থেকে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। শুক্রবার, বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারীকে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা ঘোষণা করেন অমিত শাহ।
পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ। তাঁর পর মুখ্যমন্ত্রী হন বিধানচন্দ্র রায়। তিনিই ছিলেন ‘আধুনিক বাংলার রূপকার’, ভারতরত্ন বিধানচন্দ্র রায় টানা ১৪ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এরপর, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন প্রফুল্লচন্দ্র সেন। তাঁর পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়। তাঁর বাড়ি ছিল তৎকালীন অবিভক্ত মেদিনীপুরে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম অ-কংগ্রেসি সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর পরে জোট সরকারের হয়ে, ফের মুখ্যমন্ত্রী হন প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ। ১৯৬৯ সালে ফের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়। ১৯৭১-এ শেষবার অজয়কুমার মুখোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর বাড়ি ছিল তমলুকের মালিজঙ্গলে। তখন ছিল অবিভক্ত মেদিনীপুর। তারপর মেদিনীপুর দুভাগে ভাগ হয়। পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর। এবার পূর্ব মেদিনীপুর থেকে মুখ্য়মন্ত্রী হলেন শুভেন্দু অধিকারী।
কাঁথির কাউন্সিলার থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে, এক নজরে হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক সফর
অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। ১৯৭৭-এ ক্ষমতায় আসে বামফ্রন্ট সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হন জ্যোতি বসু। জ্যোতি বসু-র পর মুখ্যমন্ত্রী হন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ২০১১-য় ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। পরিবর্তনের রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পনেরো বছর পর ফের পরিবর্তন হল পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মসনদে। এবার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ শনিবার ব্রিগেডে শপথগ্রহণ করবে নতুন সরকার। আজ রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার পর শুভেন্দু বলেন, ‘আগামীদিনে আপনাদের স্বপ্নপূরণ করার কাজ ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার করবে।’
শুভেন্দু আরও বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা, প্রণাম জানাব বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা নরেন্দর মোদিজিকে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে। যিনি ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে দাঁড়িয়ে পশ্চিম বাংলায় ভয় আউট করে, ভরসা ইন করেছেন। যাঁকে দেখে মানুষ ভোট দিয়েছে, যাঁর জন্য আমরা জিতেছি, আমাদের নরেন্দ্র মোদিজিকে আমি আমার অন্তর থেকে কোটি কোটি প্রণাম নিবেদন করব।’