সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনা : চন্দ্রনাথ রথ-কে খুনের প্রায় ৬ ঘণ্টা আগেই এলাকায় দেখা গেছিল দুষ্কৃতীদের ব্য়বহৃত নিসান মাইক্রা গাড়ি। এই গাড়িটিই গুলি চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে গিয়ে পথ আটকেছিল। আর এবার এই গাড়ি নিয়ে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের খবর, এই গাড়িটিতে মেলেনি কোনও ফিঙ্গার প্রিন্ট। তবে কি আততায়ীরা এতটাই পেশাদার যে গাড়িটি ব্যবহার করার আগে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করেছিল? এই প্রশ্নই এখন ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।
আরও পড়ুন, মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু, কী প্রতিক্রিয়া কুণাল ঘোষের ?
এখনও অধরা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনিরা। তদন্তকারীরা বলছেন, আততায়ীদের ধরতে যে CCTV ফুটেজই প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়ায়, তা জোগাড় করতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ, যে রাস্তা দিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেই রাস্তার একাধিক সিসি ক্যামেরা বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে।
এই হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের পর কেটে গেছে ২ দিন। এখনও অধরা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনিরা। প্রশ্ন উঠছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নিমেষে কোথায় পালাল আততায়ীরা? কেন এখনও ধরা গেল না? সচরাচর, অপরাধীদের ধরতে তদন্তকারীদের অন্যতম প্রধান অস্ত্র CCTV ফুটেজ। কিন্তু সেই CCTV ফুটেজ জোগাড় করতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তদন্তকারীদের। কারণ, দোহাড়িয়ার মেঠোপাড়া হয়ে যে রাস্তা দিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেই রাস্তার একাধিক সিসি ক্যামেরা পড়ে রয়েছে বিকল হয়ে।
দোহারিয়া পেয়ারাবাগান থেকে রাতের অন্ধকারে গলির রাস্তা দিয়ে মোটরবাইকে চেপে পালিয়ে গেছিল আততায়ীরা আর এই আততায়ীদের খোঁজে তল্লাশি চালাতে গিয়ে CCTV ফুটেজই একমাত্র ভরসা তদন্তকারীদের। কিন্তু তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা দেখতে পাচ্ছেন অনেক জায়গায় CCTV ক্য়ামেরা খারাপ তাই তদন্তে বেশ কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ আধিকারিকদের।
মধ্যমগ্রাম পুরসভার উপ-পুরপ্রধান প্রকাশ রাহা বলেন, পুরসভার CCTV লাগানো আমি মোটামুটি সোদপুর রোডটা জানি ঠিক আছে। কিন্তু ওদিকে, CCTV খারাপ এটা আমি জানি না। একই ছবি মেঠোপাড়া এলাকাতেও। দোহারিয়ার কাছেই মেঠোপাড়া এলাকায়, সেখানে দেখা যাচ্ছে লাইট পোস্টে সঙ্গে লাগানো CCTV ক্য়ামেরা তার মুখই অন্যদিকে ঘোরানো। তদন্তকারীদের ক্ষেত্রে সমস্য়া হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খারাপ। রাস্তার ধারে দোকানে যে সমস্ত সিসি ক্যামেরা থাকে, তাক থেকেও সেভাবে ক্লু পাচ্ছেন না তদন্তকারীরা। দুষ্কৃতীরা বাইকে চেপে যশোর রোড ধরে যখন পালিয়ে গেছিল রাতের অন্ধকারে রাস্তার পাশে যে সমস্ত দোকানগুলোর অনেকটাই বন্ধ ছিল।
প্রশ্ন উঠছে, অন্ধকারের মধ্য়ে গতিতে বেরিয়ে গেলে সিসি ক্যামেরায় নম্বর প্লেট স্পষ্ট ধরা পড়বে না জেনেই কি, অন্ধকার নামার অপেক্ষা করছিল আততায়ীরা? রবিবার বিকেলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় বিরাটি মোড় থেকে যশোর ধরে নিসান গাড়িটি মধ্যমগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। তারপর দুষ্কৃতিরা অপেক্ষা করছিল সন্ধে নামার। সন্ধে নামলে গাড়ির নম্বর স্পষ্ট হবে না। এমনই পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে। সিসিটিভি ফুটেজে চন্দ্রনাথ রথের স্করপিওর ঠিক পিছনে দেখা গেছে একটি লাল রঙের গাড়ি।
এই গাড়ি ঘিরেও তৈরি হয়েছে রহস্য। তদন্তে সিট গঠন করা হয়েছে। যশোর রোডে এই পথ ধরেই নিজের বাড়ি ফিরছিলেন। দোহারিয়া এলাকায় ঢোকার সময় সন্দেহজনক লালগাড়ি। এই গাড়িটি অনুসরণ করছিল রথের গাড়ি। সন্দেহজনক গাড়ির খোঁজ চলছে। সবমিলিয়ে সময় যত এগোচ্ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।