Last Updated:
Siddaramaiah: বিদায়ের আগে সামাজিক-অর্থনৈতিক ও শিক্ষা সমীক্ষা রিপোর্ট, যা ‘জাতিশুমারি’ নামে পরিচিত, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন সিদ্দারামাইয়া। জাতীয় রাজনীতিতে সিদ্দারামাইয়ার এই শেষ পদক্ষেপটি কংগ্রেস দলের জন্য একটি বড় হাতিয়ার হয়ে উঠল।
কর্ণাটকের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া তাঁর মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্য রাজনীতিতে বহুল চর্চিত ও বিতর্কিত সামাজিক-অর্থনৈতিক ও শিক্ষা সমীক্ষা রিপোর্ট, যা ‘জাতিশুমারি’ নামে পরিচিত, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন। পদ ছাড়ার ঠিক আগে এই সংবেদনশীল সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বর্ষীয়ান ‘AHINDA’ কৌশলী সিদ্দারামাইয়া রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আমূল বদলে দিয়েছেন। এর ফলে প্রতিটি সম্প্রদায়ের আসল অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যাগত চিত্র এখন সরকারি নথির অংশ, যা আগামী দিনে নীতি নির্ধারণের মূল ভিত্তি হতে চলেছে।
কর্ণাটকের জটিল সামাজিক বিন্যাসে এই পদক্ষেপকে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই শুমারির তথ্য রাজ্যের প্রচলিত জনসংখ্যাগত আধিপত্যের ধারণাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাবে। এতকাল লিঙ্গায়েত ও ভোক্কালিগার মতো প্রভাবশালী কৃষক সম্প্রদায়গুলো জনসংখ্যার অনুমানের ভিত্তিতে যেভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছিল, তা বদলে যেতে পারে। এই সরকারি রিপোর্টের মাধ্যমে সিদ্দারামাইয়া নিজেকে অনগ্রসর ও প্রান্তিক মানুষের প্রকৃত নেতা হিসেবে প্রমাণ করে গেলেন, যার ফলে তাঁর উত্তরসূরির পক্ষে এই ফাইলটি ধামাচাপা দেওয়া অসম্ভব হবে।
যদি চূড়ান্ত তথ্যে প্রমাণিত হয় যে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী, দলিত এবং সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যা আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি, তবে সরকারি চাকরি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সংরক্ষণের কোটা নতুন করে বিন্যাসের দাবি উঠবে। এই পরিস্থিতি রাজ্য প্রশাসনকে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সুপারিশগুলো কার্যকর করতে গেলে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে, এটি কার্যকর করতে দেরি করলে সিদ্দারামাইয়ার তৈরি করা অনগ্রসর শ্রেণির বিশাল ভোটব্যাঙ্ক হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
জাতীয় রাজনীতিতে সিদ্দারামাইয়ার এই শেষ পদক্ষেপটি কংগ্রেস দলের জন্য একটি বড় হাতিয়ার হয়ে উঠল। লোকসভা ভোটের আবহে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যখন দেশব্যাপী জাতিশুমারির দাবি তুলছে, তখন কর্ণাটকে এটি বাস্তবায়ন করে দল প্রমাণ করল যে তারা কেবল মুখে নয়, কাজেও সামাজিক ন্যায়ে বিশ্বাসী। তবে এই বিস্ফোরক তথ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বোঝা এখন সম্পূর্ণভাবে এসে পড়েছে তাঁর উত্তরসূরি ডিকে শিবকুমারের কাঁধে।
প্রভাবশালী ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি শিবকুমারের জন্য এই সিদ্ধান্ত সামলানো অত্যন্ত জটিল হতে চলেছে। একদিকে নিজের সম্প্রদায়ের ক্ষোভ প্রশমন এবং অন্যদিকে দলের ঘোষিত সামাজিক নীতি রক্ষা করা—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে তিনি উভয়সঙ্কটে। সব মিলিয়ে, পদত্যাগের আগে সিদ্দারামাইয়া এমন এক আদর্শগত ও কৌশলগত সীমানা তৈরি করে দিয়ে গেলেন, যার বাইরে গিয়ে কাজ করা আগামী সরকারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
Kolkata,West Bengal
