Last Updated:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন দাবি করেছেন, তৃণমূলের ১০০ আসন লুঠ করে তৃণমূলকে নির্বাচনে পরাজিত করা হয়েছে৷ তৃণমূলের নৈতিক জয় হয়েছে বলেও দাবি করেছেন মমতা৷
রীতি অনুযায়ী হারার পর রাজভবনে গিয়ে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেন৷ যদিও, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন না৷ মমতার দাবি, জোর করে তৃণমূলকে হারিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ তাই তিনি পদত্যাগ করবেন না৷
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি রাজভবন কেন যাব? আমরা তো হারিনি। জোর করে দখল করে কেউ যদি ভাবে আমাকে গিয়ে পদত্যাগ করতে হবে। সেটা হবে না। আমরাই জিতেছি, আমরা হারিনি”। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি নিজে থেকে রাজভবনে (অধুনা লোকভবন) গিয়ে পদত্যাগ করবেন না মমতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সত্যিই রীতি মেনে পদত্যাগ না করেন তাহলে কি নতুন সরকারের শপথগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে? রাজ্যে সাংবিধানিক সঙ্কটেরও কি কোনও আশঙ্কা রয়েছে?
যদিও সেরকম কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই দাবি করেছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত৷ তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১৬৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাজ্যপাল যতদিন চাইবেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা ততদিনই নিজেদের পদে থাকেন৷ মন্ত্রিসভার সময়কাল ৫ বছর৷ কমিশন এই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভোট শেষ করায়৷ ভোটের ফল বেরনো মাত্রই নতুন সদস্যরা জয়ী হন৷ সেই তালিকা কমিশন রাজ্যপালকে দেয়৷ সরকার গঠনের দাবি জানায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল৷ ফলে আগের সরকারের মেয়াদ এমনিতেই শেষ হয়ে যায়৷ কিন্তু রীতি অনুযায়ী বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেন৷ রাজ্যপাল তখন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকেই অনুরোধ করেন নতুন মন্ত্রিসভা শপথ না নেওয়া পর্যন্ত তিনি যাতে পুরনো মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়েই কয়েক দিন সরকার চালান৷ সেই কারণেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে পুনর্নিয়োগ করেন৷’
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্ত আরও বলেন, ‘সরকারি ভাবে পদত্যাগপত্র না এলে রাজ্যপাল মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে পারেন৷ পাশাপাশি দু তিন দিনের জন্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকেই সরকার চালানোর দায়িত্ব দিতে পারেন রাজ্যপাল৷ নাহলে তিনি প্রশাসনকে নিজের হাতে রাখতে পারেন৷ ফলে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে এ ক্ষেত্রে সঙ্কটের প্রশ্ন নেই৷’
Kolkata,West Bengal
