Last Updated:
Rajib Banerjee:
কলকাতা: বদলে গেল ‘ডিপি’! এবার বিদ্রোহী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে ডিপিতে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার আর নয়। বদলের বাংলায় ‘ডিসপ্লে ইমেজ’ পাল্টে বিদ্রোহী সুর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়।
“আমি সম্পর্ক রাখতে চাই না”
রাজীব বলেন, “যার জন্যে আমার রাজনৈতিক ও পারিবারিক জীবন শেষ হয়েছে তাঁর সঙ্গে আমি সম্পর্ক রাখতে চাই না। আমি যোগাযোগ রাখতে চাই না। আমি তাঁর ছবি রাখতে চাই না। দিদি, দয়া করে বাঘের বাচ্চা অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে বলবেন না। ওকে ডিফেন্ড করবেন না। বাংলার মানুষ, কর্মীরা এতে দুঃখ পেল।”
একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজীবের বার্তা, “শুভেন্দু অধিকারীকে তাড়িয়ে দেওয়া হল, চলে যেতে বাধ্য করা হল। খালি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুযোগ করে দিতে। যুব থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করেছিল। গত ৫ বছর অমানুষিক কাজ করেছি। প্রাণ সংশয় নিয়ে ত্রিপুরায় কাজ করেছি।”
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে বলেছিলেন, তুই সক্রিয় ছেলে রাজনীতিতে”
এরপরেই রাজীবের আক্ষেপের সুর, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে বলেছিলেন, তুই সক্রিয় ছেলে রাজনীতিতে। তোকে আমার ত্রিপুরায় রেখে কী লাভ? বাংলায় কাজে লাগানো যেত। মায়ের জীবন্ত মুখ দেখতে পাইনি ত্রিপুরায় থেকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যাঁরা কাজ করেছে তাঁদের চরিত্রের কথা ভাবুন। আজ হাওড়া জেলার সভাপতি করছেন আর এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভুইফোঁড় নেতাদের কথায় আমাকে একদিন হাওড়া থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল।ডেবরায় পাঠিয়েছিল পরিকল্পনা করে আমার রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ করতে।”
“আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে একবারও ফোন করে খোঁজ নেয়নি”
এখানেই শেষ নয়, এরপর স্ত্রী বিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে একবারও ফোন করে খোঁজ নেয়নি। যে সব রত্নদের নিয়ে কাজ করেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেটা দেখেছেন? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় আমি পরিশ্রম করে গিয়েছি। আমি চরকির মতো পাক খেয়েছি। যাঁরা রাজনৈতিক কাজ করেনি তাঁদের বড় পদ দেওয়া হল। প্ল্যান করে আমার রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ করেছিল।”
“আমাকে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়তে বলেছিল”
অভিষেককে চরম নিশানা করে রাজীবের তোপ, “আমাকে নন্দীগ্রামে লড়তে যেতে বলেছিল। আমাকে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়তে বলেছিল। আমি লড়ব না বলায় আমার সঙ্গে সম্মুখ সমরে গিয়েছিল। আমার কেরিয়ার শেষ করেছে। আমার রাজনৈতিক কেরিয়ার ও জীবন শেষ করে দিয়েছে অভিষেক। তৃণমূল কংগ্রেস ধ্বংসের পিছনে দায়ী এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁদের নিয়ে দল করেছে, ভাবুন তাদের অবস্থা কী? হয়ত অনেকে ভয় পেয়েছেন। এখন মানুষ বুঝছেন। আমাকে অভিষেকের সঙ্গে দল করতে সবাই বারণ করছে।”
Kolkata,West Bengal
Jul 17, 2026 11:42 PM IST
