বিয়ের সব রীতি রাতে সম্পন্ন হয়েছে:
তথ্য অনুযায়ী রাজস্থান এর টোঙ্ক জেলার বাসিন্দা সঞ্জয় পাটওয়ার বিয়ে বেলাগঞ্জের দরিয়াপুর গ্রামের এক যুবতীর সঙ্গে ঠিক হয়েছিল। ঠিক করা প্রোগ্রাম অনুযায়ী সঞ্জয় তাঁর পরিবার এবং আত্মীয়দের সঙ্গে ‘বারাত’ নিয়ে বিহার পৌঁছয়। দুই পক্ষের উপস্থিতিতে হিন্দু রীতি-রেওয়াজ এবং পুরো বিধি-বিধান অনুযায়ী বিয়ের সব রীতিনীতি সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ের সময় কেউই আন্দাজ করতে পারেনি যে পরের দিনই এক বড় সত্য ফাঁস হবে।
সুনিয়োজিত ষড়যন্ত্রের অংশ:
ছেলেপক্ষের অভিযোগ, বিয়ে আগে থেকেই এক সুনিয়োজিত ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল। পীড়িত সঞ্জয় পাটওয়া জানিয়েছেন, বিয়ে ঠিক হওয়ার পর দুলা পক্ষের দেওয়া মোবাইল নম্বরে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা অনলাইনে ট্রান্সফার করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি বিয়ের সময় দুলা দুলা কে সোনার মঙ্গলসূত্র, সোনার আংটি, রূপার পায়েল-সহ অনেক দামি উপহারও দিয়েছিল। পরিবার জানিয়েছে, তারা পুরো বিশ্বাসের সঙ্গে এইসব করেছিল।
সকালবেলা বরকে বিদায়:
মঙ্গলবার সকালে দুলা কে বিদায় হওয়ার কথা ছিল। বারাত পক্ষের লোকেরা বিদায়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল। এই সময় কিছু গ্রামের লোকেরা তাদের জানিয়েছিল, মেয়ের বাড়িতে তালা লাগানো আছে। খবর পেয়ে দুলা ও তার পরিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে তারা যা দেখল, তাতে তাদের মাথা ঘুরে যায়। বাড়ি বন্ধ ছিল এবং পরিবারের সব সদস্য রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছিল।
নানান রকম আলোচনা শুরু:
ঘটনার খবর পেয়ে দুলা পক্ষ তৎক্ষণাৎ ডায়াল-১১২ এ ফোন করে পুলিশকে জানায়। এরপর সবাই Belaganj থানা পৌঁছায় এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। ঘটনা সামনে আসার পর এলাকায় নানান রকম আলোচনা শুরু হয়েছে। লোকেরা অবাক হয়ে গেছে, বিয়ে মতো পবিত্র রীতির আড়ালে এত বড় প্রতারণা কীভাবে করা হলো।
দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা:
মামলাটি নিয়ে বেলাগঞ্জ থানাধ্যক্ষ সুনীল কুমার দ্বিবেদী জানিয়েছেন, পীড়িত পক্ষের আবেদন পাওয়া গেছে। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেছেন, তদন্তে যেসব তথ্য সামনে আসবে, তার ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবারের খোঁজে ব্যস্ত পুলিশ:
এখন পুলিশ পলাতক কনে এবং তার পরিবারের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতারণার শিকার বর এবং তার পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় বসে আছে। এখন সবার নজর পুলিশের তদন্তের দিকে, কবে এই কথিত বিয়ে প্রতারণা চক্রের সত্যি সামনে আসে।