এক মাস আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘‘আমি টার্গেট বেঁধে দিয়েছি ডিসেম্বরের মধ্যে পে কমিশনের রিপোর্ট দিয়ে দেবে। তাহলে জানুয়ারি মাসে কার্যকর করে দেব। সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হলে ২৮-২৯ অর্থবর্ষে অষ্টম পে কমিশনও বিবেচনার সঙ্গে দেখবো ৷’’ সেই কথা রাখল সরকার ৷ আরও এক প্রতিশ্রুতি পূরণ বিজেপি সরকারের। ক্ষমতায় আসার আড়াই মাসের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন গঠন। ৬ মাসের মধ্যে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ।
—————————-
২০% DA-র পর সপ্তম পে কমিশন ৷ ঘোষণা মাফিক রাজ্যে গঠন হল সপ্তম পে কমিশন। সপ্তম পে কমিশনের চেয়ারম্যান করা হল কেন্দ্রীয় সরকারের অবসরপ্রাপ্ত IAS অতনু চক্রবর্তীকে। তাঁর পাশাপাশি ২ জন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞকে রাখা হয়েছে এই সপ্তম বেতন কমিশনে। ৬ মাসের মধ্যেই তাঁরা তাঁদের রিপোর্ট জমা দেবেন ৷
এক সরকারি কর্মী সুদীপ্ত সরকারের কথায়, ‘‘খুব ভাল খবর, অনেকদিন ধরেই আশা করেছিলাম। আমরা খুব আনন্দিত। আশা করছি আমাদের বকেয়া দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে। সদর্থক ভূমিকা রাজ্য সরকারের ৷’’
নির্বাচনী ইস্তাহারে বিজেপির অন্যতম দুটি প্রতিশ্রুতি ছিল, ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন। পালাবদলের পরই ডিএ-র প্রতিশ্রুতি পূরণ। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ হারে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা। এবার সপ্তম পে কমিশন গঠন করল রাজ্য সরকার। বুধবার সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করল অর্থ দফতর।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্য শ্রীবাস তিওয়ারির কথায়, ‘‘ওনারা ক্ষমতায় আসার পরই সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ইস্যুগুলো নিয়ে ১ জুন আলোচনা করেন। বলেছিলেন কমিটিটা খুব দ্রুত ঘোষণা করব। ঘোষণা করে দেওয়ায় সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমরা খুশি ৷’’
কী করবে বেতন কমিশন?
———————————
সরকারি কর্মীদের বেতন, ভাতা, ডিএ, বিশেষ ভাতা পর্যালোচনা করবে কমিশন
ট্রাভেল অ্যালাওয়েন্স-সহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধাও পর্যালোচনা করবে কমিশন
পেনশন, অবসরকালীন সুবিধা, পদোন্নতির বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিশন
চাকরির শর্ত এবং কাজের পরিবেশের উন্নয়নের বিষয়েও সুপারিশ করবে কমিশন
কেন্দ্রের অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশও বিবেচনায় রাখা হবে
সপ্তম বেতন কমিশনকে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের বর্তমানে যে বেতন কাঠামো সেটা তাঁরা পর্যালোচনা করবেন। অন্যান্য রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বর্তমানে যে বেতন কাঠামো সেটা তাঁরা পর্যালোচনা করে তাঁদের মতামত জানাবেন। শুধু তাই নয় সপ্তম বেতন কমিশন রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে নানা বিষয়ে পর্যালোচনা করবেন।
প্রয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দিতে পারবে কমিশন
বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতামত নেবে
বিজ্ঞপ্তির ৬ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে হবে কমিশনকে
এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী সুজিত চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘বিষয়টা খুবই আনন্দের বিষয়। পে কমিশন হওয়ার পর ফারাক অনেকটাই মিটে যাবে। আমরা খুবই খুশি।’’
সরকারি কর্মীরা যাতে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাত্রা কাটাতে পারে, সেই কারণেই সরকারি কর্মীদের DA দেয় সরকার। সপ্তম পে কমিশন চালু হলে অনেকটা বেতন বাড়বে কর্মীদের। বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের কর্মচারীদের বেতনের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা কমবে। কর্মচারীদের হাতে বাড়তি অর্থ এলে তা সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।