তোর্ষা ভট্টাচার্য্য, কলকাতা: পুজোয় সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের (Srijit Mukherji) যে ছবি মুক্তি পাবে, সেই ছবির গল্প তুলে ধরবে ইতিহাসের একটি ঘটনাকে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পথের দাবী’ উপন্যাস এবং সেই লেখাকে ঘিরে সরকার আর সাহিত্যিকের যে দ্বন্দ্ব, যে দ্বৈরথ.. সেটাই উঠে আসবে ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ (Emperor vs Sarat Chandra) ছবিতে। সদ্যই মুক্তি পেয়েছে, সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত আরও একটি ছবি, ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’। আদ্যপান্ত রাজনৈতিক এই ছবি দর্শক মহলে বেশ প্রশংসিত ও হয়েছে। সদ্য পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলে হয়েছে। তৃণমূল সরকারের আমল চললে, সৃজিতের রাজনৈতিক ছবি মুক্তি পেতে কি সমস্যা হত? কী বলছেন খোদ পরিচালক?
ছবির সাফল্য বাড়তি উৎসাহ যোগায় সৃজিতকে
একের পর এক ছবি মুক্তি, তার সাফল্য.. এগুলো যে সৃজিতকে নতুন কাজে উৎসাহ দেয়, তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বললেন সৃজিত। পরিচালক বললেন, ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ ক্রিটিক্যালি এবং কমার্শিয়ালি খারাপ ফল করলে, মনখারাপ তো হতোই। তবে অনেকেই বলছেন, ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ আমার সেরা ছবি। কেউ কেউ বলছেন, আমার সেরা ৫টা কাজের মধ্যে একটা। পাশাপাশি বক্সঅফিসে হাউজফুল শো, ভীষণ ভাল লাগছে।’ ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ -এর পরে, ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ -ও কি আরও একটা রাজনৈতিক ছবি? সৃজিত বলছেন, ‘ ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ আদ্যপান্ত রাজনৈতিক একটি সিনেমা। ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ -তেও রাজনীতি রয়েছে। আমি মনে করি, কোনও বক্তব্যকে ব্যান করে দেওয়ার পিছনে একটা রাজনীতি কাজ করে। আমাদের রাজ্যেও তো আমরা ব্যান কালচারের ছবি দেখেছি। ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ -ও সেই ব্যান হওয়ারই গল্প বলে। একজন লেখক একটা সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে এবং তাঁর বই ব্যান করে দেওয়া হচ্ছে। এর থেকে রাজনৈতিক উচ্চারণ আর কীই বা হতে পারে?’
সৃজিত, সিনেমা এবং রাজনীতি
সৃজিত বলছেন, ‘আমার যে পলিটিক্যাল ট্রিলজি.. ‘পদাতিক’, ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’ আর ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’, এই রাজনৈতিক ট্রিলজির মধ্যে আমি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-কে ফেলব না। এই গল্পে একটা ইতিহাসের কথাও বলা হয়েছে। এটাকে পিরিয়ড ড্রামা হিসেবে বেশি দেখব।’ যে সময়ে দাঁড়িয়ে সৃজিত এই পরিকল্পনা করেছেন, সেই সময়ে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায়। ব্যান কালচার নিয়ে সিনেমার পর্দায় কথা বললে ছবির মুক্তিতে সমস্যা হতে পারত? সৃজিত বলছেন, ‘‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ মুক্তির ক্ষেত্রে সমস্যা হত না, কিন্তু ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’-এর ক্ষেত্রে হলেও হতে পারত। ওখানে এমন অনেক বক্তব্য রয়েছে.. যদি এই সরকারের বদলে অন্য সরকার আসত, তাহলে অসুবিধা হতে পারত। সেই অসুবিধার কথা আসলে ভাবিনি, কারণ ছবিটা মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, জানুয়ারি মাসে। ভোটের তখনও অনেক দেরি। তবে সব অসুবিধার কথা ভেবে, মানসিক এবং আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু সেটা হয়নি। আমার মনে হয়, রাজনৈতিক ছবি যদি করতেই হয়, তাহলে তৃণমূলকে তৃণমূলই বলব, সিপিএমকে সিপিএম-ই বলব। বিজেপিকে বিজেপিই বলব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বলব। বাজপেয়ীকে কে বাজপেয়ীই বলব। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যই বলব। কোনোরকম ধরি মাছ না ছুঁই পানি-র মধ্যে আমি যাব না। এ নিয়ে সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে আমার সমস্যাও হয়েছে। সিনেমায় সব তরফের, সব রকমের যুক্তি থাকবে। তার সঙ্গে বাস্তবের মিল পেয়ে যদি দর্শক আনন্দিত হন, হবেন। আমার শুধু দেখার কথা, আমি কীভাবে গল্পটাকে দর্শকদের কাছে তুলে ধরছি। সেই ব্যাপারে আমি খুব স্পষ্ট।’