কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পরেই একের পর এক দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে আসছে। এবার শিরোনামে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ। আজ্ঞে হ্যাঁ শহরের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরেই মিলছে ২টি ট্রলিব্যাগ ভর্তি, উইপোকা খাওয়া নোটের হদিশ। আর ছাদে উঠতেই যেতেই মিলেছে তৃণমূল নেতার ‘বেডরুমের’ হদিশ। এবার এই ঘটনায় তীব্র কটাক্ষ বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের।
এদিন সজল ঘোষ বলেন, কানাকাটারা এই টাকা খেলে যত ক্ষতি হত, উইপোকা খেলে কম ক্ষতি হয়। আর এই টাকাটা ওরা নিতে ভুলে গিয়েছিল। যে পরিমাণ রোজগার করে কলেজগুলি থেকে, তাঁদের কাছে এই টাকাটা এমন কোনও বড় টাকা নয়। ওরা ভূলে গিয়েছিল, এই টাকাটা নিয়ে যেতে।
প্রশ্ন: কী কী ভাবে রোজগার করে (ওরা) ?
সজল ঘোষ : ভর্তির থেকে, এই দেওয়ালটা তৈরি হয়েছে, ওদের থেকে কাটমানি। ওদের লোক কন্ট্রাকটার হবে। ওদের লোক মালটা সাপ্লাই দেবে। সিন্ডিকেট যেটা আমরা বাইরে দেখি, সেটা এখানেও আছে। জানবেন প্রত্যেকটা দেওয়ালের থেকে কমিশন খেয়েছে। এত ব্যাগ ছিল, সেটা নিয়ে যেতে ভুলে গিয়েছে। আর এর পিছনে দুটো বিলাশবহুল স্যুইট পাওয়া গিয়েছে।..সব ব্যবস্থাই আছে এখানেও। একটা ঘরে বাবা থাকত, আরেকটা ঘরে ছেলে। বাবাও কলেজে যায়, ছেলেও কলেজে যায়। ..গডফাদার সুদীপ আর নয়না। আর শিবাশিষ ব্যানার্জি , সে হচ্ছে অ্যাডপটেড গ্র্যান্ড সন।
এবার সুরেন্দ্রনাথ কলেজেও টাকার পাহাড়। বন্ধ ঘর থেকে মিলল দুটো ট্রলি ব্যাগ ভর্তি পোকায় খাওয়া বান্ডিল বান্ডিল টাকা। চারতলার ঘরে খাট, আলমারি, এসি-সহ এলাহি আয়োজন। স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এল তৃণমূল নেতার নাম। এনিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। রেস্ট রুমে খাট-আলমারি-এসির পর কলেজের ইউনিয়ন রুমে উদ্ধার হল আগ্নেয়াস্ত্র। রেস্টরুমে ঝাঁ চকচকে বাথরুম, শাওয়ার, ছাদে গুচ্ছ গুচ্ছ মদের বোতল। এই ছবি খাস কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের। বর্ষার আগে সাফাইয়ের জন্য় কলেজের বন্ধ ঘর খুলতেই চক্ষু ছানাবড়া। সেখান থেকে মিলল পোকায় খাওয়া বান্ডিল বান্ডিল নোট। দু-দু’টো ট্রলিব্য়াগের মধ্য়ে দেখা গেল এরকম তা়ড়া তাড়া নোট। এখানেই শেষ নয়। ইউনিয়ন রুম থেকে উদ্ধার হয়েছে কালো প্যাকেটে মোড়া এই আগ্নেয়াস্ত্র। চারতলায় কয়েকমাস আগে উদ্বোধন হওয়া ক্লাসরুমের পাশে রেস্টরুম খুলে দেখা গেল, সেখানে খাট, আলমারি, এসি কী নেই।