বর্তমান বয়স এবং ১০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ধরে হিসেব করলে চমকে যাওয়ার মতো তথ্য সামনে আসে। ১৯৭১ সালের ২৮ জুন জন্মগ্রহণকারী এলন মাস্কের বয়স বর্তমানে প্রায় ৫৫ বছর। যদি ধরা হয় তিনি ১০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন, তাহলে তাঁর হাতে আরও ৪৫ বছর বা প্রায় ১৬,৪২৫ দিন সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাঁর পুরো ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ শেষ করতে হলে তাঁকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হবে।
যদি মাস্ক আজ থেকেই তাঁর সম্পদ খরচ করা শুরু করেন, তাহলে ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে তাঁকে প্রতিদিন প্রায় ৬.৭ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৫৪ কোটি টাকা) খরচ করতে হবে। আরও সহজ করে বললে, তাঁকে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৩ কোটি টাকা এবং প্রতি মিনিটে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হবে। তাও এই খরচ টানা পরবর্তী ৪৫ বছর ধরে চালিয়ে যেতে হবে, তবেই তাঁর সম্পদ পুরোপুরি শেষ হতে পারে।
প্রতিদিন কিনতে পারেন প্রাইভেট জেট ও ব্যক্তিগত দ্বীপ
এই দৈনিক খরচের ক্ষমতা কতটা বিশাল, তা বোঝা যায় এই উদাহরণ থেকে—মাস্ক চাইলে প্রতিদিন একটি নতুন বিলাসবহুল Gulfstream Jet কিনতে পারেন অথবা বিশ্বের যে কোনও সুন্দর ব্যক্তিগত দ্বীপ নিজের নামে করে নিতে পারেন। তাঁর এক দিনের খরচ অনেক ছোট উন্নয়নশীল দেশের স্বাস্থ্য বা শিক্ষা বাজেটের থেকেও বেশি হতে পারে। এমনকি তিনি যদি প্রতিদিন বিশ্বের সবচেয়ে দামী হোটেলের স্যুট বুক করেন এবং কোটি কোটি টাকার হিরে-জহরতও কেনেন, তবুও এই গতিতে সম্পদ শেষ করা কঠিন হবে।
বাস্তবে মাস্কের পক্ষে এইভাবে সম্পদ শেষ করা প্রায় অসম্ভব। কারণ তাঁর মোট সম্পদের ৯০ শতাংশেরও বেশি Tesla এবং SpaceX-এর মতো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা রয়েছে। যদি তিনি এই সম্পদ শুধুমাত্র ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট বা সরকারি বন্ডেও রাখেন, তাহলে সেখান থেকে যে বার্ষিক সুদ আসবে, তা তাঁর দৈনিক খরচের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। অর্থাৎ একদিকে তিনি প্রতিদিন ৫৫৪ কোটি টাকা খরচ করলেও, অন্যদিকে বিনিয়োগ থেকে আয় তাঁর সম্পদকে কমতে দেবে না।
এলন মাস্কের মোট সম্পদের প্রায় ৯৫ শতাংশই টেসলা, স্পেসএক্স, The Boring Company এবং X-এর মতো সংস্থার শেয়ারের মূল্য থেকে এসেছে। অর্থাৎ তাঁর যে বিপুল সম্পদের কথা বলা হয়, তার বেশিরভাগই নগদ অর্থ নয়, বরং ‘নেট ওয়ার্থ’ হিসেবে গণনা করা হয়।
ক্যাশ এবং নেট ওয়ার্থ এক জিনিস নয়। বাজারে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত খরচ বা নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের জন্য মাস্ক অনেক সময় ঋণও নেন। তাঁর সম্পদ মূলত বিভিন্ন কোম্পানিতে থাকা মালিকানার মূল্য, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা থাকা নগদ টাকা নয়।
ধরা যাক, মাস্ক তাঁর সমস্ত শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থে রূপান্তর করতে চান। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। তিনি যদি টেসলা বা স্পেসএক্সের বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেন, তাহলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে এবং শেয়ারের দাম দ্রুত কমে যেতে পারে। ফলে বর্তমানে যে সম্পদের মূল্য ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরা হচ্ছে, তা অর্ধেক বা তারও কম হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি এই বিক্রির ওপর তাঁকে বিপুল পরিমাণ করও সরকারকে দিতে হবে।