তৃণমূল নেত্রীর কথায়, “ভয়, সন্ত্রাস যা দেখাচ্ছে, তা সাময়িক। এজেন্সি দেখাচ্ছে সাময়িক। আমরা অমায়িক। আপনারা এই বছর থাকলেন বা না থাকলেন, আপনারা আমাদের হৃদয়ে আছেন। যাঁরা আজ যাচ্ছেন তাঁরা আমাদের সঙ্গে গোপনে গোপনে যোগাযোগ রাখছে। মানুষের রায়কে সম্মান না জানাতে পারলে, কী বলব। ২১শে জুলাই কে আসল আর কে আসল না, তাতে কিছু যায় আসে না। ১৯৯৭ সালে যদি পারি, ২০২৬ সালেও পারব।”
সোনম ওয়াংচুক প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, “দিল্লি যতই সাংসদ কিনুক। দেশের অবস্থা ভাল নয়। একটা মানুষের জীবন সঙ্কটের মধ্যে তাও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। যারা যাওয়ার তারা ২১শে জুলাইয়ের আগে চলে যান। দলকে কালিমালিপ্ত করে আপনারাও সম্মানিত হচ্ছেন না। আপনাদের অনেক লাগেজ ব্যাগেজ আছে আমি জানি।”
ভিডিও বার্তায় মমতা বলেন, “অনেক ছলনা, ‘না নাম, না নিশানা’, কোনওটাই নাকি তারা রাখবেন না, আপনারা ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিজেদের রক্ষা করুন। দিল্লিটা আগে রক্ষা করুন, তবে তো আপনারা নিজেদের রক্ষা করতে পারবেন। দিল্লির মদতে যা ইচ্ছে তাই আপনারা করে যাচ্ছেন। মনে রাখবেন, দিল্লি যতোই জোর করে সাংসদ কিনুক বা বেচুক, আগামী দিন কিন্তু কঠিন হচ্ছে। আমরা চাইনা দেশের অবস্থা সঙ্কটের মধ্যে পড়ুক, কিন্তু মানুষ বলছে, অর্থনীতিবিদরা বলছেন। আজকে দীর্ঘদিন ধরে সোনম অনশন করার পরেও তার সঙ্গে সরকারের কেউ দেখা করল না। আমি যখন ২৬ দিন অনশন করেছিলাম, সরকার থেকে কেউ আমার সঙ্গে কথা বলতে আসেনি, একমাত্র তৎকালীন মাননীয় রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধি এসেছিলেন, মহাশ্বেতা দি ছিলেন, কবীর সুমন ছিলেন, ভিপি সিং এবং আরও অনেক নেতা এসেছিলেন, কিন্তু সেটা ২০ দিনের পরে।”
প্রসঙ্গত, রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানিয়ে বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও বার্তা শুরু করেন মমতা। তিনি বলেন, “আজ সকলকে রথযাত্রার অনেক শুভকামনা জানাই। জয় জগন্নাথ, সবাইকে ভাল রাখুন। আমি প্রত্যেক পূর্ণার্থীকে প্রণাম জানাই, সঙ্গে এই কথা নিশ্চয়ই বলব, আজ ১৬ জুলাই, আগেরবার আমার এই দিনে জগন্নাথ ধামে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল, রথ টানার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু এবার আমি যেতে না পারলেও মনে সব স্মৃতি আছে, আমি বাড়িতেই জগন্নাথ দেবের পুজো করেছি।”
আর তার পরই কোয়েলের পদত্যাগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। বলেন, “আজ আর একজন সাংসদ, তিনি ভাল শিল্পী, আমি তাঁকে সম্মান করি… বিজেপি-র কোনও একটা নেতার সঙ্গে মিটিং করেই নিজের ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলি, উনি আগেই ইমেল পাঠিয়েছিলেন। থ্যাঙ্কস টু হার। আজ ফিজিক্যালি জমা দিতে গিয়েছেন।”