পার্থপ্রতিম ঘোষ, কৃষ্ণেন্দু অধিকারী ও সমীরণ পাল, কলকাতা: মঙ্গলবার ৪ ভাগে হল শহিদ স্মরণ। শহিদ পরিবারের কেউ গেলেন কালীঘাট-তৃণমূলের মঞ্চে, কেউ ঋতব্রত-তৃণমূল, কেউ কংগ্রেসের মঞ্চে, কেউ আবার কোথাও না গিয়ে দুয়ার এঁটে বসে রইলেন দিনভর। কোনও মঞ্চেই দেখা গেল না শহিদ শ্রীকান্ত শর্মা ও বিশ্বনাথ রায়ের পরিবারকে! রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। এদিকে, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এদিন দাবি করেন শহিদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের কাছেই এসেছেন।
আরও পড়ুন, শুধুই কি অসুস্থতা ? মমতার ২১-এর মঞ্চে কেন নেই সাহিত্য়িক আবুল বাশার ? মুখ খুললেন সাক্ষাৎকারে
গুলি চলেছিল বাম আমলে। প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী। ক্ষমতায় এসেই গোটা ঘটনার তদন্ত করতে কমিশন গঠন করেছিল মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। কিন্তু, পনেরো বছরেও সেই রিপোর্ট প্রকাশ্য়ে আনেননি। ক্ষমতায় আসার আড়াই মাসের মধ্য়েই সেই রিপোর্ট সামনে এনে, ২১ জুলাইয়ের আগের বিকেলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রেক্ষাপটে, মঙ্গলবার শহিদ পরিবারগুলি পা বাড়াল নানা পথে। কেউ গেলেন কালীঘাট-তৃণমূলের মঞ্চে, কেউ ঋতব্রত-তৃণমূল, কেউ কংগ্রেসের মঞ্চে। কেউ আবার কোথাও না গিয়ে দুয়ার এঁটে বসে রইলেন দিনভর। যেমন ২১ জুলাই-এর কোনও মঞ্চেই গেল না শহিদ শ্রীকান্ত শর্মার পরিবার। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কংগ্রেসের তরফেও। সেখানেও গেলেন না তাঁরা।
২১ জুলাই মৃত শ্রীকান্ত শর্মার মেয়ে পিঙ্কি শর্মা বলেন, আমরা এখন বিচার চাইছি। যে দায়ী ছিল, তাকে (মণীশ গুপ্ত) এত বাহবা দেওয়া হয়েছে, তাকে আড়াল করা হয়েছে, তাকে বাঁচানোর জন্য আজকে পুরো কমিশনের ফাইল চেপে দেওয়া হয়েছিল, জনগণের সামনে আনা হয়নি, আর সেখানে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই উঠছে না। ‘ ঋতব্রত-তৃণমূলের মঞ্চে দেখা গেল শহিদ রঞ্জিত দাস মহম্মদ খালেক , রতন মণ্ডল, দিলীপ দাসের পরিবারকে।
প্রশ্ন: এবছর মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সভায় না গিয়ে এই ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সভায় কেন?
শহিদ দিলীপ দাসের মেয়ে: আমার ইচ্ছেয় এসেছি আমি। কোনও জোর করা হয়নি। সবকিছুই তো পরিবর্তন হচ্ছে। ওই জন্য আমরাও হলাম।
প্রশ্ন: মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের মিটিং-এ না গিয়ে এখানে এলেন কেন?
শহিদ রতন মণ্ডলের স্ত্রী : নেমন্তন্ন করেছে যে আসতেই হবে।
প্রশ্ন: মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের তরফে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি?
শহিদ রতন মণ্ডলের স্ত্রী : হ্য়াঁ।
এদিকে, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ও তাঁর মঞ্চে উপস্থিত থাকার জন্য় শহিদ পরিবারগুলিকে ধন্য়বাদ জানান। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, শহিদ পরিবারকে আমার প্রণাম জানাই। ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবার আমাদের সাথে এসেছে।এত প্রলোভন। এত টাকা, এত লাঞ্চনা, এত বঞ্চনা, এতকিছু থাকা সত্ত্বেও তাঁরা কিন্তু আমাদের কাছে এসেছেন।শহিদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দাদা সামিল হন কংগ্রেসের শহিদ স্মরণে। শহিদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দাদা বিকাশ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, কল্যাণকে আমি বারণ করেছিলাম। যাবি না। যাবি না। আমি বললাম যাস না। বলল আমি যাব। মমতার মিটিং-এ। মঙ্গলবার স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীরা বরানগরে শহিদ বিশ্বনাথ রায়ের বাড়ির সামনে বেদিতে মালা দিতে গেলে তাদের বাধা দেয় পরিবার। একদম মাল্যদান করবেন না এখানে। যে নোংরামিটা হয়েছে সেখানে কেউ প্রতিবাদ করোনি তখন, তোমরা তখন সব অংশ নিয়েছ। যাও, যাও।’ কোনও মঞ্চেই হাজির না হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মৃত বিশ্বনাথ রায়ের ছেলে।২১ জুলাই মৃত বিশ্বনাথ রায়ের ছেলে রাজীব রায় বলেন, আমি FIR করব। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে করব, মমতা ব্যানার্জির নামে করব, অভিষেক ব্যানার্জির নামে করব এবং মণীশ গুপ্তর নামেও FIR হবে।’তৃণমূল নেতা-কর্মীরা চলে যাওয়ার পরই শহিদ বেদি জল দিয়ে ধুয়ে ফেলেন শহিদ পরিবারের সদস্যরা।