উল্লেখ্য, সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ শেষ হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করা হয়। সেই ধারা অনুসারে অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।”
অষ্টম বেতন কমিশনের অধীনে কি বকেয়া মিলবে?
আগের বেতন কমিশনগুলির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত তারিখ এবং বাস্তবায়নের তারিখের মধ্যে ব্যবধান থাকলে কর্মীরা বকেয়া পেয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ সরকার অনুমোদন করার পর কার্যকর হবে। তবে এটি ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে পূর্ববর্তী তারিখ হিসেবে প্রযোজ্য হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে কর্মীরা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বকেয়া পাওয়ার যোগ্য হবেন। তবে কার্যকর হওয়ার চূড়ান্ত তারিখ এবং বকেয়ার পরিমাণ সম্পর্কে এখনও সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
যদি সরকার কর্মী সংগঠনগুলির দাবি অনুযায়ী ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর মেনে নেয় এবং অষ্টম বেতন কমিশনকে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে ঘোষণা করে, অথচ বাস্তবায়ন হয় ২০২৭ সালের শেষ দিকে, তাহলে কর্মীরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বকেয়া পেতে পারেন। ধরে নিন, বর্তমানে কোনও কর্মীর ন্যূনতম মূল বেতন (বেসিক পে) যদি ১৮,০০০ টাকা হয়, তাহলে তা বেড়ে প্রায় ৬৯,০০০ টাকা হতে পারে। অর্থাৎ মাসিক প্রায় ৫১,০০০ টাকা বৃদ্ধি। যদি ২৪ মাসের বকেয়া দেওয়া হয়, তাহলে শুধুমাত্র মূল বেতনের ক্ষেত্রেই প্রায় ১২.২৪ লক্ষ টাকা বকেয়া মিলতে পারে। যদি ১৮ মাসের বকেয়া হিসেব করা হয়, তাহলে সেই অঙ্ক প্রায় ৯.১৮ লক্ষ টাকা হতে পারে। তবে এই হিসেব সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর। কারণ এখনও কমিশন কোনও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর সুপারিশ করেনি এবং সরকারও বাস্তবায়নের সময়সীমা ঘোষণা করেনি।
চূড়ান্ত বকেয়ার অঙ্ক নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর—
বর্তমান মূল বেতন (Basic Pay)
কমিশনের সুপারিশ করা ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর
মহার্ঘ ভাতা (DA) একীভূতকরণের সূত্র (যদি থাকে)
সংশোধিত বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখ
বাস্তবায়নের প্রকৃত তারিখ
কর্মীর পে-লেভেল ও চাকরির শর্তাবলি
বর্তমানে অষ্টম বেতন কমিশন কর্মী সংগঠন, পেনশনভোগী সংগঠন, বিভিন্ন মন্ত্রক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পূর্ববর্তী বেতন কমিশনগুলির ক্ষেত্রেও কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত তারিখ এবং বাস্তবায়নের তারিখের মধ্যে ব্যবধান ছিল। সেই কারণে কর্মীরা বকেয়া পেয়েছিলেন। তবে বকেয়ার পরিমাণ কর্মীর বেতন স্তর এবং সরকারের গৃহীত সংশোধন সূত্রের উপর নির্ভর করে আলাদা হয়েছে।
আগের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই অনেক কর্মী মনে করছেন, অষ্টম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নিশ্চিত ঘোষণা আসেনি।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের মতে, ২০২৭ সালের শেষ দিকে অষ্টম বেতন কমিশন বাস্তবায়িত হতে পারে। তবে এটি ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হতে পারে, যার ফলে কর্মীরা ১৮ থেকে ২৪ মাসের বকেয়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।