শশী মানে, উল্টোদিকে কি তবে ছিলেন শশী পাঁজা? সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে একইরকম শান্তভাবে মন্ত্রী বললেন, ‘‘হ্য়াঁ’’৷ রাজ্যের প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানাতে ফোন করলেন বর্তমান শিল্পমন্ত্রীকে৷ শশী ওপাড় থেকে বললেন, ‘‘অভিনন্দন আপনাকে এবং আপনার নতুন দায়িত্ব নেওয়াকে, আমার শুভকামনা থাকল৷ ’’ এপাড় থেকে তাপস রায় বললেন, ‘‘ধন্যবাদ৷’’
খুব অল্প সময়ের জন্যই কথা৷ এদিকে শুধুমাত্র, উত্তর সূচক, ‘ধন্যবাদ’, ‘হ্য়াঁ’, ‘ঠিক আছে’, ‘নিশ্চই’ এই সবই শোনা গেল৷
তবে কি প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রীর পরামর্শ নেবেন তাপস?
উত্তরে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বললেন, ‘‘না কোনও প্রয়োজন নেই৷ আমি আমার দলের পরামর্শ নেব, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরামর্শ নেব, বণিকসভার সদস্যদের পরামর্শ নেব৷’’
প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরে এখন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু এত কিছুর মাঝেও দেখা পাওয়া যায়নি বিগত সরকারের অন্যতম প্রধান মুখ শশী পাঁজার। তার পর আজ তাপস রায়কে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন। তবে ফোনটি একেবারেই রাজনৈতিক সৌজন্যমূলক ছিল বলে সূত্রের খবর।
শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, ‘‘টাটাকে আনতেই হবে। রতন টাটা যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে প্রথম আমিই তাঁর কাছে ছুটে যেতাম। হাতে ধরে অনুরোধ করতাম। এমন ইন্ডাস্ট্রিতে উনি ফাদার ফিগার। বলতাম, আপনি চলুন। টাটাকে এখান থেকে চলে যাওয়াটা তো নিজের রাজনীতির জন্য এবং বিরোধী রাজনীতিতে সফল হওয়ার জন্য যেটা করেছিল, তারপর না শিল্প হল না কৃষি হল। আর ওইসব বিজিবিএস বাগাড়ম্বর। স্পেনে যাওয়ার কোনও অর্থ হয় না। তবে রতন টাটাজির যাঁরা উত্তরাধিকারী, আমি তাঁদের কাছে যাব। ওদের হেড কোয়ার্টারে যাব।’’
তিনি বলেন, ‘‘আরও যত বিনিয়োগকারী রয়েছেন, বিজনেস আইকন রয়েছেন দেশে এবং বিদেশে, আমি কুণ্ঠা বোধ করব না হাতে পায়ে ধরতে। এই বাংলা আর সেই বাংলা নেই। বাংলা বদলেছে, পার্সেপশন বদলেছে। এখানে তোলবাজারি ঠাঁই নেই, অত্যাচার হবে না। ট্রেড ইউনিয়নের নামে যে অত্যাচার হত, টাকা তোলা হত। তা আর হবে না।’’
তাপস রায়ের মতে, ‘‘আগের সরকারের কোনও ইঞ্জিন ছিল না। এখন ডবল ইঞ্জিন। এটাই সুসংবাদ যে আমাদের থেকে বেশি চিন্তা করছেন প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, গৃহমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী। ক’দিন আগে ১ লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্পের ঘোষণা করলেন। ১৩ তারিখ আমূল আসছে। এটা তো গুজরাতের। এর পিছনে কি মোদিজি, অমিত শাহজির আশীর্বাদ নেই। অত্যন্ত পজিটিভ দিক। এর আগে যে সরকার ছিল তাদের শিল্পকে কীভাবে বাড়ানো যায়। তা ভাবতেন না ৷ নিজেদের কিছু লোকজন আর অর্থ বৈভবের দিকেই শুধু নজর ছিল। পশ্চিমবঙ্গের দিকে নজর ছিল না।’’